ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মাসুদকে উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। সেখানে জামায়াত নেতা ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ছবি যুক্ত করে দাবি করা হয় যে তিনি বলেছেন, “৫৫০০ কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুতির পর ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া ৫০০০ জনের সবাই যে জামায়াত-শিবিরের লোক, এটা সত্য নয়। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ অনুরোধে এনসিপি ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রায় ১২০০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশও ছিল।”
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “৫৫০০ কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুতির পর ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া ৫০০০ জনের সবাই যে জামায়াত-শিবিরের লোক, এটা সত্য নয়। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ অনুরোধে এনসিপি ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রায় ১২০০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশও ছিল।” এই বক্তব্যকে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নামে উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, এআই প্রযুক্তির সহায়তায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবিসংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২৪ জুন, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এরই সূত্র ধরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ফেসবুক পেজে ওই তারিখে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে আলোচিত শিরোনামসংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উল্লিখিত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটির নকশাগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্ট ও টাইপোগ্রাফি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নিয়মিত প্রকাশিত ফটোকার্ডের ফন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিরোনাম ও মূল লেখার কয়েকটি বাংলা অক্ষর ভেঙে বা বিকৃত হয়ে গেছে। এ ধরনের বিকৃতি সাধারণত এআই-নির্ভর ইমেজ জেনারেশন টুল দিয়ে বাংলা লেখা তৈরি বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশেষ করে ছোট আকারের ফন্ট ব্যবহারের সময়।

ফটোকার্ডটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করতে ছবিটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল Hive Moderation-এ বিশ্লেষণ করা হয়। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ফটোকার্ডটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। একই সঙ্গে এটি তৈরিতে Google Gemini 3 এআই মডেল ব্যবহৃত হওয়ারও জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে, চ্যানেল-২৪ এর ১৯ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সরকারকে সতর্ক করে সেদিন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তবে উক্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাকে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত আলোচিত মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।
সুতরাং, জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।
তথ্যসূত্র
- The Business Standard – Facebook Page
- The Business Standard – Website
- The Business Standard – YouTube Channel
- Channel 24 – ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ
- Hive Moderation: Hive Detect AI
- Rumor Scanner’s Analysis

