তারেক রহমানসহ বিএনপির ১৩ শীর্ষ নেতার মনোনয়ন বাতিলের দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির ১৩ জন শীর্ষ নেতার নমিনেশন বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

টিকটকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তারেক রহমানসহ বিএনপি’র ১৩ জন শীর্ষ নেতার নমিনেশন বাতিল হওয়ার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। এছাড়াও আলোচিত তথ্যটি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনও কোনো ঘোষণা দেননি। প্রকৃতপক্ষে, সাংবাদিক মাসুদ কামাল ও ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলামের পৃথক পৃথক ভিডিও ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যুক্ত করে একটি ভিডিও তৈরি করে সেটি আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। প্রচারিত ১৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে সাংবাদিক মাসুদ কামাল ও ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলামকে দেখতে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে তাদেরকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা করতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুইজনের আলোচনার সামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়াও ভিডিওতে ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলামকে তারেক রহমানের দ্বৈত নাগরিকতা নিয়েও আলাপ করতে শোনা যায়। কিন্তু ভিডিওর কোথাও তাদেরকে আলোচিত দাবিটি করতে শোনা যায়নি। পাশাপাশি ভিডিওটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার কোনো তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।

আলোচিত ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া সাংবাদিক মাসুদ কামালের ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান ইউটিউব চ্যানেল Onno Moncho Masood Kamal এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ৫ জানুয়ারি মূল ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

তবে ভিডিওটিতে মাসুদ কামালের পাশের স্ক্রিনে আরেক সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকেও দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে তাদের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। কিন্তু সেখানে তারেক রহমানসহ বিএনপির ১৩ জন শীর্ষ নেতার নমিনেশন বাতিল হওয়ার বিষয়ে কোনো আলাপ করতে শোনা যায়নি। এছাড়াও সিইসির এমন ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গেও কোনো কথা বলেননি তারা। এমনকি উক্ত ভিডিওতে ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলামকেও দেখতে পাওয়া যায়নি। মূলত ভিডিওটি থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় মাসুদ কামালের ফুটেজ ক্রপ করে সেটির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। যেটি পরবর্তীতে ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলামের ভিন্ন আরেকটি ফুটেজের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলামের ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে তার ইউটিউব চ্যানেল পর্যালোচনার মাধ্যমে গত ৫ জানুয়ারি মূল ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। যেটিতে তিনি তারেক রহমানের দ্বৈত নাগরিকতা ত্যাগ করা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তবে সেখানেও আলোচিত দাবিটির বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি।

অর্থাৎ, বিভিন্ন ভিডিওকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সত্যতাও যাচাই করা যায়নি। তবে নড়াইলের দুটি সংসদীয় আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন দাবিতে একটি প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে সেগুলো শুধুমাত্র বিএনপির প্রার্থীদের নয়।

সুতরাং, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির ১৩ জন শীর্ষ নেতার নমিনেশন বাতিল করার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: