কারিনার মৃত্যুর সাথে হাম ইস্যুকে জড়িয়ে ঢাবি শিক্ষিকা সায়মা ফেরদৌসের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

সম্প্রতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস “কারিনা কায়সার একজন জুলাইযোদ্ধা। হামে মারা যাওয়া শিশুরা জুলাইযোদ্ধা নয়, তাই তাদের মৃত্যুতে আসমান কাঁপেনা, কারিনার মৃত্যুতে কাঁপে।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত মন্তব্যটি চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে সূত্রপাত হওয়া দাবিকে আসল খবর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রেও আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কারিনা কায়সারের মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যমে দেওয়া চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে কারিনা ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে তাকে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা গেলেও আলোচিত মন্তব্যটি করতে শোনা যায়নি।
উক্ত ফটোকার্ডের সূত্রপাত অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৭ মে আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের ধরনে উল্লেখ পাওয়া যায়, ‘এটি একটি স্যাটায়ার ও প্যারোডি বা ব্যঙ্গানুকরণ পেজ।’
এছাড়া, পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এরূপ আরো অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পেজটিতে রয়েছে। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।
চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস এমন কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা তা যাচাই করতে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস “কারিনা কায়সার একজন জুলাইযোদ্ধা। হামে মারা যাওয়া শিশুরা জুলাইযোদ্ধা নয়, তাই তাদের মৃত্যুতে আসমান কাঁপেনা, কারিনার মৃত্যুতে কাঁপে।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

