শ্রমিক শক্তির মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় ‘র’ জড়িত দাবিতে পাকিস্তানি গণমাধ্যমে ভুয়া তথ্য

গুলিবিদ্ধ হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির নিহত হওয়ার পরপরই গত ২২ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকশক্তির খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসলামাবাদে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশি গণমাধ্যম ডেইলি স্টারের সূত্র দেখিয়ে দাবি করা হয়, এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা অনিমেষ মণ্ডল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। হাদিকে গুলি করার ঘটনায়ও ‘র’ এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে একই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসলামাবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকশক্তির খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে গুলি করার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ‘র’-কে জড়িয়ে আলোচিত মন্তব্যটি করেননি। প্রকৃতপক্ষে, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে ডেইলি স্টারকে জড়িয়ে সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডলের নামে ভূয়া মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশি গণমাধ্যম ডেইলি স্টারের বরাতে আলোচিত দাবিগুলো করা হলেও যে প্রতিবেদনকে সূত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে সেটিতে পুলিশ কর্মকর্তার এমন কোনো মন্তব্য নেই। এছাড়াও ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে মোতালেব শিকদারকে গুলি করার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও কোনো কথা বলা হয়নি।

এছাড়াও উক্ত ঘটনায় অন্যান্য দেশীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডলের এমন কোনো মন্তব্য করার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, এ ঘটনায় সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোতালেব শিকদারকে গুলি করার ঘটনায় তাকে যে ভাড়া বাসায় গুলি করা হয়েছে সেটির ভাড়াটিয়া জাতীয় যুবশক্তির খুলনা জেলা যুগ্ম-সদস্য সচিব তানিয়া তন্বীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, মোতালেব শিকদার ‘হানি ট্র্যাপ’-এর শিকার হয়েছিলেন। তন্বী সেই হানি ট্র্যাপ চক্রের-ই একজন সদস্য। মূলত মোতালেবকে ডেকে ট্র্যাপে ফেলে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেছিল চক্রটি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গুলি করা হয়।

সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিকে ও মোতালেব শিকদারকে গুলি করার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-কে জড়িয়ে আলোচিত মন্তব্যটি করেছেন কিনা জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, তার নামে প্রচারিত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া। টাইমস অব ইসলামাবাদ নামের কোনো গণমাধ্যম থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। এছাড়াও তিনি দেশীয় কোনো গণমাধ্যমকেও উভয় হামলার সাথে ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতার দাবি করে কিছু বলেননি।

অর্থাৎ, পাকিস্তানি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসলামাবাদ-এ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডলকে জড়িয়ে ভুয়া দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার সাথে ‘র’-কে জড়িয়ে একই পাকিস্তানি গণমাধ্যম আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। যেটিতেও আরেক বাংলাদেশি গণমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনকে সূত্র দেখিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, শ্রমিকশক্তির খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে গুলি করার ঘটনায় ‘র’-কে জড়িয়ে পুলিশ কর্মকর্তার নামে প্রচারিত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: