এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুকে নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমের সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুকে জড়িয়ে ‘এনসিপি নেত্রীকে সৌদি আরবের নম্বর থেকে ধর্ষণের হু’মকি, নম্বর প্রকাশ’ শীর্ষক শিরোনামে বাংলাভিশনের ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া, ‘এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে লাগানোর হু’মকির অভিযোগ’ শীর্ষক শিরোনামে জাগো নিউজের একটি ফটোকার্ডও প্রচার হতে দেখা যায়।

বাংলাভিশনের ফটোকার্ড যুক্ত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ)।

জাগো নিউজের ফটোকার্ড যুক্ত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘এনসিপি নেত্রীকে সৌদি আরবের নম্বর থেকে ধর্ষণের হু’মকি, নম্বর প্রকাশ’ শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে বাংলাভিশন এবং ‘এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে লাগানোর হু’মকির অভিযোগ’ শীর্ষক শিরোনামে জাগো নিউজ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলাভিশন ও জাগো নিউজের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে এই ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।

আলোচিত ফটোকার্ডগুলো আলাদা আলাদাভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

ফটোকার্ড যাচাই-১ 

আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বাংলাভিশনের লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে।

এই সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাভিশনের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ৩০ ডিসেম্বর গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ‘এনসিপি নেত্রীকে সৌদি আরবের নম্বর থেকে হ’ত্যার হু’মকি, নম্বর প্রকাশ’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে। বাংলাভিশনের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘এনসিপি নেত্রীকে সৌদি আরবের নম্বর থেকে হ’ত্যার হু’মকি, নম্বর প্রকাশ’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘এনসিপি নেত্রীকে সৌদি আরবের নম্বর থেকে ধর্ষণের হু’মকি, নম্বর প্রকাশ’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাভিশনের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত বাংলাভিশনের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর বিকালে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও এমপি প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তাকে একটি নম্বর থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখিত নম্বরটি সৌদি আরবের।

ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও এমন একটি পোস্ট পাওয়া যায়।

ফটোকার্ড যাচাই-২

আলোচিত এই ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে জাগো নিউজের লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। 

এই সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জাগো নিউজের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ৩০ ডিসেম্বর গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ‘এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে হ’ত্যা’র হু’মকির অভিযোগ’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে। জাগো নিউজের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে হ’ত্যা’র হু’মকির অভিযোগ’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে লাগানোর হু’মকির অভিযোগ’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, জাগো নিউজের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত জাগো নিউজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি উপরোক্ত বাংলাভিশনের প্রতিবেদন২১শে গ্রেনেড হামলার মামলায় আজ রাতের ভিতর র‍্যাব ৮ এ গ্রেফতার হতে পারেন একই ঘটনার। যা মূলত ডা. মাহমুদা মিতু তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে করা নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা একটি পোস্ট নিয়ে।

সুতরাং, ‘এনসিপি নেত্রীকে সৌদি আরবের নম্বর থেকে ধর্ষণের হু’মকি, নম্বর প্রকাশ’ শিরোনামে বাংলাভিশনের নামে প্রচারিত ফটোকার্ড ও ‘এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে লাগানোর হু’মকির অভিযোগ’ শীর্ষক দাবিতে জাগো নিউজের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: