‘তারেক রহমানের সম্মতিতে চাঁদাবাজি’ শিরোনামে ফেস দ্যা পিপলের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, ‘আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির নেতা আটক। আটককারী বললেন- তারেক রহমানে সম্মতিতে করছি।’ শিরোনামে এক ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ফেস দ্যা পিপল এর ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরুপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায় ‘আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির নেতা আটক। আটককারী বললেন- তারেক রহমানে সম্মতিতে করছি।’ শিরোনামে ফেস দ্যা পিপল কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ফেস দ্যা পিপল এর ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদিত করে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে ফেস দ্যা পিপল এর লোগো এবং প্রকাশের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ উল্লেখ রয়েছে। উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে ফেস দ্যা পিপল এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ফেস দ্যা পিপল এর ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, ফেস দ্যা পিপলের ফেসবুক পেজে আলোচিত ফটোকার্ডের ওই ব্যক্তির ছবি সংবলিত প্রচারিত ডিজাইনের হুবহু ফরম্যাটে ‘নির্বাচন শেষ হতে না হতেই আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

ফেস দ্যা পিপলের মূল ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টের কমেন্টে থাকা সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাভারের আশুলিয়ায় বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে যাত্রীবাহী বাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী, বিশেষ করে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে বাস থামিয়ে চাঁদা দাবি করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে যাত্রীদের ধাওয়ায় একজন আটক হয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়, অন্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে কাউকে আটক করা যায়নি। আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারাও অভিযুক্তদের চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে জড়িয়ে এ ধরনের কোনো মন্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, ফেস দ্যা পিপলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, ‘আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির নেতা আটক। আটককারী বললেন- তারেক রহমানে সম্মতিতে করছি।’ শিরোনামে ফেস দ্যা পিপল এর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: