বাংলাদেশের জনপ্রিয় কবি, গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেল। সম্প্রতি, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কোহিনুর আক্তার রাখিকে “এখন পেটায় কার পুলিশে? কার পুলিশে সো’দে? এখন শা’ও’য়া’য় তাপ লাগেনা চৈত্র মাসের রোদে!” শীর্ষক বাক্য যুক্ত একটি পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায়। কোহিনুর আক্তার রাখি যে পোস্টটি শেয়ার করেছেন সেই পেজটির নাম “Marzuk Russel”। পেজেটিতে ফলোয়ার রয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার।

শুধু রাখিই নয়, উক্ত পোস্টটি এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত শেয়ার করা হয়েছে অন্তত ৬৭৬ বার এবং পোস্টে মন্তব্য করা হয়েছে ১২শো-এর উপরে। এমনকি পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাক্ট) পড়েছে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার।

রাখিসহ প্রায় সকলেই উক্ত পোস্টটি অভিনেতা মারজুক রাসেলই করেছেন বলে মনে করে পোস্টটি শেয়ার করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত পেজটি মারজুক রাসেলের নিয়ন্ত্রণে নেই। তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্য কেউ এই পেজটি পরিচালনা করছেন বলে রিউমর স্ক্যানারকে জানান অভিনেতা নিজেই।
কবি, গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেল নাম ও ছবি ব্যবহার করে নিয়মিত পোস্ট করা অন্তত চারটি পেজের সন্ধান পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার। চারটি পেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পেজগুলোতে প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি ফলোয়ার যুক্ত রয়েছে এবং পেজগুলো থেকে সাড়ে সাত হাজারের বেশি পোস্ট করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, পেজগুলোর মধ্যে একাধিক পেজের নাম শুরুতে মারজুক রাসেলের নামে ছিল না। শুরুতে ভিন্ন নামে পেজটি খোলা হলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে মারজুক রাসেলের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
আবার, একটি পেজের নাম শুরুতে মারজুক রাসেলের নামে খোলা হলেও পরবর্তীতে নাম বদলে ভিন্ন নামকরণ করা হয়েছিল এবং সেই নাম ফের পরিবর্তন করে মারজুক রাসেলের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

ফ্যানপেজ উল্লেখ থাকলেও বিভ্রান্ত নেটিজেনরা
মারজুক রাসেলের নামে যে চারটি পেজের সন্ধান পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার সেগুলোর সবগুলোতেই লেখা রয়েছে ‘Fan Page’। ফ্যান পেজ বলতে বোঝায় সেলিব্রিটিদের ভক্তদের নিয়ন্ত্রণে সেই সেলিব্রিটির নামে খোলা একটি পেজ। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মারজুক রাসেলের নামে খোলা এই পেজগুলোতে ‘ফ্যান পেজ’ উল্লেখ থাকলেও নেটিজেনরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
আবার অধিকাংশ সময় দেখা যায়, এই ফ্যান পেজগুলো কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন সেবিষয়ে অবগত থাকেন সেলিব্রিটি ব্যক্তি।
কিন্তু মারজুক রাসেলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। রিউমর স্ক্যানারকে তিনি বলেন, “এ-ছাড়া Marzuk Russell / Marzuk Rasel (সো-কল্ড ফ্যান পেইজসহ) নামে যা আছে, কারা চালায়, জানি না।”
যে পেজগুলো মারজুক রাসেলের নিয়ন্ত্রণে
অভিনেতা মারজুক রাসেলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা পেজগুলোর লিংক দিয়েছেন। মারজুক রাসেল নিজের নামে, নিজের লেখা বইয়ের নামসহ আটটি পেজ নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান। যার মধ্যে নিজের নামে Marzuk Russell (পেজ), Marzuk Russell (অ্যাকাউন্ট), জনপ্রিয় সিরিজ ব্যাচেলর পয়েন্টে অভিনয়ের প্রেক্ষিতে পাওয়া পাশা ভাই নামে একটি পেজও চালান তিনি। এছাড়া, মারজুক রাসেলের জিনিস―গোল্লা এবং ত্যালফ্যাল ছাড়া, যে রান্ধে― নামক দুইটি পেজও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। পাশাপাশি, মারজুক রাসেল নিজের লেখা তিনটি বইয়ের নামেও পেজ পরিচালনা করেন। সেগুলো হলো– দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর―মারজুক রাসেল ও হাওয়া দেখি, বাতাস খাই―মারজুক রাসেল এবং চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো―মারজুক রাসেল।
অনিয়ন্ত্রিত পেজগুলো নিয়ে যা বললেন মারজুক রাসেল
অভিনেতা মারজুক রাসেলের নাম ও ছবি ব্যবহার করে খোলা পেজগুলো থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে। পোস্টগুলো মারজুক রাসেলই করছেন ভেবে ধরে নিচ্ছে নেটিজেনরা। যার ফলে প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে এই অভিনেতাকে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মারজুক রাসেল। তবে, সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে রিউমর স্ক্যানারের সাথে কথা বলেছেন অভিনেতা। মারজুক রাসেল বলেন, ‘আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অনেকগুলো ভুয়া পেজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উস্কানীমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। যেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা নেই এবং পোস্টগুলোও আমার দেওয়া নয়। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত হচ্ছি। যারা আমাকে চেনেন, বিশেষ করে আমার লেখালেখি, অভিনয়, জীবন-যাপন সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তারা জানেন―এগুলো ফেক পেজ। এই পেজগুলোর কারণে আমি আমার দর্শক, ভক্তদের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছি।’


