তারেক রহমান গ্রেফতার হতে পারেন দাবিতে কালের কণ্ঠ ও বার্তা বাজারের সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি ‘২১শে গ্রেনেড হামলার মামলায় আজ রাতের ভিতর র্যাব ৮ এ গ্রেফতার হতে পারেন নির্বাসিত থাকা পলাতক আসামি তারেক রহমান।’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠের ও “যেকোনো সমন গ্রেপ্তার হতে পারে তারেক রহমান।” শীর্ষক দাবিতে বার্তা বাজারের ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

১ম দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)
২য় দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “যেকোনো সমন গ্রেপ্তার হতে পারে তারেক রহমান।” শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে বার্তা বাজার ও ‘২১শে গ্রেনেড হামলার মামলায় আজ রাতের ভিতর র্যাব ৮ এ গ্রেফতার হতে পারেন নির্বাসিত থাকা পলাতক আসামি তারেক রহমান।’ শীর্ষক শিরোনামে কালের কণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে বার্তা বাজার ও কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে এই ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
ফটোকার্ড যাচাই ১
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বার্তা বাজারের লোগো রয়েছে তবে এটি প্রকাশের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে।
বার্তা বাজারের লোগো ও ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবিসম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, বার্তা বাজারের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে গত ২৫ ডিসেম্বর গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ‘’এই মাটির সন্তানরা মুক্ত স্বদেশে ফিরছেন এটাই জুলাইয়ের অর্জন’: চিফ প্রসিকিউটর’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে। বার্তা বাজারের মূল ফটোকার্ডটিতে “’এই মাটির সন্তানরা মুক্ত স্বদেশে ফিরছেন এটাই জুলাইয়ের অর্জন’: চিফ প্রসিকিউটর” শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে “যেকোনো সমন গ্রেপ্তার হতে পারে তারেক রহমান।’’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, বার্তা বাজারের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সম্বলিত বার্তা বাজারের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই মাটির সন্তানেরা মুক্ত স্বদেশে ফিরছেন এটাই জুলাইয়ের অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
পাশাপাশি, আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ড যাচাই ২
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠের লোগো ও ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে গত ২৫ ডিসেম্বর গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে “যারাই আসি না কেন, নবী (স.) এর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে দেশ গড়ব” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে। কালের কণ্ঠের মূল ফটোকার্ডটিতে “যারাই আসি না কেন, নবী (স.) এর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে দেশ গড়ব” শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে “২১শে গ্রেনেড হামলার মামলায় আজ রাতের ভিতর র্যাব ৮ এ গ্রেফতার হতে পারেন নির্বাসিত থাকা পলাতক আসামি তারেক রহমান।’’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, “২১শে গ্রেনেড হামলার মামলায় আজ রাতের ভিতর র্যাব ৮ এ গ্রেফতার হতে পারেন নির্বাসিত থাকা পলাতক আসামি তারেক রহমান।’’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ড ও “যেকোনো সমন গ্রেপ্তার হতে পারে তারেক রহমান।” শীর্ষক দাবিতে বার্তা বাজারের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho: Facebook Post
- Barta Bazar: Facebook Post

