জামায়াত ক্ষমতায় আসলে বিজয় দিবস বাতিল হবে শীর্ষক মন্তব্য করেননি জামায়াত আমীর, ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের ছবি সংযুক্ত করে ‘১৯৭১ সালে কোনো যুদ্ধ হয়নি | জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাতিল করা হবে” শীর্ষক শিরোনামে সংবাদমাধ্যম নাগরিক টিভির ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাতিল করা হবে’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিক টিভির ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে ভুয়া এই দাবি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে সংবাদমাধ্যম নাগরিক টিভি’র লোগো ও ফটোকার্ডটি প্রচারের তারিখ হিসেবে ১০ ডিসেম্বরের উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশের সন্ধান মেলেনি। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটেও উল্লেখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডের ফন্ট, ফন্টের আকার, ফন্টের গাঢ়ত্ব ও লাইন স্পেসে অমিল পরিলক্ষিত হয়।

পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বরং অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী যুব ম্যারাথনের আয়োজন করে। যুব ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ডা. শফিক বলেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল। তাই দেশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। যে কারণে ১৯৭০ সালে ভোটের পর যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

অর্থাৎ, গত বিজয় দিবসে জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আমীরের অবস্থান অনুযায়ী ১৯৭১ সালে কোনো যুদ্ধ হয়নি বা জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাতিল করা হবে শীর্ষক মন্তব্য করা অযৌক্তিক।

সুতরাং, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাতিল করা হবে শীর্ষক মন্তব্য জামায়াত আমীর করেছেন দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: