সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন নিয়ে ভুয়া নোটিশ 

গত ৩০ মার্চ জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। এর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার নোটিশ দাবিতে একটি ছবি ছড়িয়েছে, যাতে বলা হয়েছে সপ্তাহে বর্তমান ৫ কর্মদিবসের পরিবর্তে ৩ দিন (রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার) স্বশরীরে উপস্থিত থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উক্ত ৩ কার্যদিবসে অফিসের সময় হবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। সপ্তাহের অবশিষ্ট ২ কার্যদিবস (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখুন দ্য ওয়াল

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জ্বালানী সংকটে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন সংক্রান্ত এই নোটিশটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং মূলধারার গণমাধ্যমগুলোয় এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশের হদিশ মেলেনি। কথিত এই নোটিশে স্বাক্ষর রয়েছে মো. আসাদুজ্জামান নামে উপসচিব পদের এক ব্যক্তির। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নামে কোনো ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, “এইরকম কোন চিঠি আমার শাখা থেকে ইস্যু করা হয়নি। আর মো. আসাদুজ্জামান নামে আমাদের মন্ত্রণালয়ে কোন উপসচিব নাই।”

জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সুতরাং, সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নামে প্রচারিত নোটিশটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

  • Rumor Scanner’s analysis
  • Statement
Share: