নির্বাচনে জামায়াতকে জেতানোর দাবিতে এনএসআই-এর নামে ছড়ানো নথিটি ভুয়া

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে বিজয়ী করতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই)-এর একটি কথিত অতি গোপনীয় নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নথিটিতে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও জোটের বিজয়ের ব্যবধানকে একটি অপরিবর্তনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ সমর্থন নিশ্চিত করার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

কথিত নথিটিতে আদর্শিক ও কৌশলগত ভিত্তি, ফলাফল ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ও কোড ল্যাঙ্গুয়েজ, গোপনীয় বিতরণ তালিকা এবং বিশেষ সতর্কবার্তা এই ছয়টি শিরোনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি শিরোনামের অধীনে নির্বাচন ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এনএসআইয়ের নামে ছড়ানো কথিত গোপন নথিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই এনএসআইয়ের নামে নথিটি প্রচার করা হলেও অনুসন্ধানে সেটিকে ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দুই পৃষ্ঠার নথিটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার। এতে দেখা যায়, নথির শুরুতে স্মারক নম্বর ইংরেজিতে লেখা হলেও শেষাংশে হাতে লেখা সংখ্যায় বাংলা ব্যবহার করা হয়েছে। তারিখের ফরম্যাটের সঙ্গেও সরকারি নথিতে ব্যবহৃত প্রচলিত ফরম্যাটের মিল নেই। একইভাবে, অনুলিপি প্রেরণের ক্ষেত্রেও সরকারি নথির স্বাভাবিক ফরম্যাট অনুসরণ করা হয়নি। পাশাপাশি, পুরো লেখার ভাষা ও উপস্থাপনায় কৃত্রিমতার লক্ষণ দেখা যায়। বিশেষ করে ড্যাশ চিহ্নের (—) ব্যবহার, সংক্ষিপ্ত রূপ যেমন এনএসআই, ইসি ও সিইসি ইংরেজিতে লেখা এবং শব্দচয়নে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।

আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, উক্ত নথি সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি ‘Subrato Kumer Sarker’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে প্রকাশ করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখানোর কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন অতিরিক্ত ইমোজির ব্যবহার, শব্দচয়ন এবং লেখার ভঙ্গিতে অস্বাভাবিকতা। পরে অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করে সেখানে একাধিক এআই-তৈরি কনটেন্টের (, , ) উপস্থিতিও পাওয়া যায়।

বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে আলোচিত নথি নিয়ে দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে এনএসআই সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, এমন কোনো পরিকল্পনার বিষয়টি পুরোপুরি অসত্য।

সুতরাং, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে বিজয়ী করতে এনএসআইয়ের নামে ছড়ানো কথিত গোপন নথিটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: