‘আমি নিজে সাক্ষী আমীর সাহেবের টুইটার হ্যাক হয়েছিল’ বলে মন্তব্য করেননি শেহরীন আমিন ভূঁইয়া

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার (মোনামী) ছবি সংযুক্ত করে তৈরি একটি ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয়েছে তিনি বলেছেন, ‘আমি কখনো কসম কাটি না। তবুও আল্লাহর কসম, আমীর সাহেবের টুইটার হ্যাক হয়েছিল। আমি নিজে সাক্ষী। উনি অনেক ভালো মানুষ, উনি কখনো নারীদের পতিতা বলতেই পারেন না’। 

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘আমি কখনো কসম কাটি না। তবুও আল্লাহর কসম, আমীর সাহেবের টুইটার হ্যাক হয়েছিল। আমি নিজে সাক্ষী। উনি অনেক ভালো মানুষ, উনি কখনো নারীদের পতিতা বলতেই পারেন না’ বলে মন্তব্য করেননি শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে সূত্রপাত হওয়া দাবিটিকে আসল খবর হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উক্ত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Daily Mollar Desh’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১ ফেব্রুয়ারিতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। তবে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে ‘Daily Mollar Desh’ এর লোগোর অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।

‘Daily Mollar Desh’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের বায়োতে উল্লেখ পাওয়া যায়, ‘গণতন্ত্র নিপাত যাক, মোল্লাতন্ত্র মুক্তি পাক। এটি একটি প্যারোডি পেজ।’ (অনূদিত) এছাড়াও, পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরো অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া আলোচিত মন্তব্যটি না করলেও জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমীরের টুইটার একাউন্ট হ্যাক ইস্যুতে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় গতকাল রাতে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিলাম না। আজ ঘুম থেকে উঠে সেই ভাইরাল পোস্ট দেখি এবং ইতোমধ্যে জামায়াত থেকে এর রেসপন্স/ক্লারিফিকেশন এসেছে। জামায়াতের এই এক্সপ্ল্যানেইশন শুনে আমার মনে হয়নি সেই পোস্টটি তাদের টিমের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত এভিডেন্সসহ তাদের ক্লেরিফিকাশন দিয়েছে এবং আমি এটা বিশ্বাস করেছি। আপনি বা আপনারা কনভিনিয়েন্সড না হলে সেটা আপনার বা আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

সুতরাং, ‘আমি কখনো কসম কাটি না। তবুও আল্লাহর কসম, আমীর সাহেবের টুইটার হ্যাক হয়েছিল। আমি নিজে সাক্ষী। উনি অনেক ভালো মানুষ, উনি কখনো নারীদের পতিতা বলতেই পারেন না’ শীর্ষক মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: