সম্প্রতি, কন্ঠশিল্পী হায়দার হোসেন মারা গেছেন দাবিতে দৈনিক যুগান্তরের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। আলোচিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘জুলাই যোদ্ধা এবং দেশের জনপ্রিয় শিল্পী হায়দার হোসেন আজ সন্ধ্যায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।’

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
একই দাবির টিকটক পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত শিরোনামে যুগান্তর কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। কন্ঠশিল্পী হায়দার হোসেনও জীবিত আছেন। প্রকৃতপক্ষে, যুগান্তরের ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে যুগান্তরের লোগো দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘৫ মার্চ, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যগুলোর সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে গত ৫ মার্চ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়নি। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্যকোনো গণমাধ্যমে উল্লিখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আলোচিত দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হায়দার হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে জানানো হয়, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি জীবিত আছি এবং ভালো আছি। আমার জন্য দোয়া করার জন্য ধন্যবাদ।’ (অনূদিত)

পাশাপাশি যুগান্তরের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, কন্ঠশিল্পী হায়দার হোসেন মারা গেছেন দাবিতে যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।


