গণপূর্তের কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আমার দেশের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারকে জড়িয়ে তার ছবিসহ আমার দেশের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা গেছে। উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়, ‘এসি চালানো শিখতে নয় যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা, গোপন বৈঠক করবে জয়ের সাথে’।

অর্থাৎ, ফটোকার্ডটিতে সুজনের বরাতে দাবি করা হয়েছে যে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন এসি পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে নয়; বরং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে গোপন বৈঠক করতেই তাদের এই সফর।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারকে জড়িয়ে আমার দেশ এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং বদিউল আলম মজুমদারও গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জড়িয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আমার দেশের ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে ভুয়া এই দাবিগুলো প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে আমার দেশের লোগো এবং ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১১ মার্চ, ২০২৬ উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে গত ১১ মার্চ কিংবা অন্য কোনো তারিখে প্রকাশিত এমন কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান মেলেনি। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলেও উল্লেখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্ট ডিজাইনের অমিল পরিলক্ষিত হয়।

পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতেও আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি৷

উল্লেখ্য, ‘এসি চালানো শিখতে আট কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ’ শিরোনামের সংবাদকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আট বিভাগীয় শহরে নির্মাণাধীন বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রকল্পে ব্যবহৃত এইচভিএসি (হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং) সিস্টেম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডুনহাম-বুশ আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ প্রশিক্ষণের ব্যয়ভারও বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি; এতে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুতরাং, ড. বদিউল আলম মজুমদারকে জড়িয়ে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: