ময়মনসিংহে হিন্দু যুবককে হত্যায় জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মী আটক দাবিতে আমার দেশের নামে ভুয়া ফটোকার্ড

গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস নামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যার পর উত্তেজিত জনতা তার মরদেহে আগুনও দেয়। এ ঘটনায় দায়ের করা এক মামলায় জামাত-শিবিরের ১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবিতে ‘ময়মনসিংহে নিরপরাধ দিপু চন্দ্র দাশকে হত্যা ও আগুনে পোড়ামোর মামলায় জামায়াত ও শিবিরের ১০ জন গ্রেফতার’ শিরোনামে আমার দেশের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘ময়মনসিংহে নিরপরাধ দিপু চন্দ্র দাশকে হত্যা ও আগুনে পোড়ামোর মামলায় জামায়াত ও শিবিরের ১০ জন গ্রেফতার’ শিরোনামে আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হলেও জামাত-শিবিরের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত, আটক ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আমার দেশের ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে সংবাদমাধ্যম আমার দেশের লোগো ও ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২০ ডিসেম্বরের উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক আমার দেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে আলোচিত শিরোনামগুলোতে প্রচারিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। উক্ত গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে এমন কোনো সংবাদ প্রচার হতে দেখা যায়নি।

ফটোকার্ডগুলো বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর ফন্ট, ফন্টের আকার, ফন্টের গাঢ়ত্বে অমিল পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়, আমার দেশের ফটোকার্ডের নিচের অংশে ‘বিস্তারিত কমেন্টে’ শীর্ষক একটি লেখা থাকে যেটি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে অনুপস্থিত। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, উক্ত ফটোকার্ডটি আমার দেশের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে তৈরি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত আটক ব্যক্তিদের ছবি এবং উল্লেখিত ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করার বিষয়ে অনুসন্ধানে মানবজমিনের ওয়েবসাইটে ময়মনসিংহের ঘটনায় ভালুকায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই অপুচন্দ্র দাস বাদী হয়ে ১৪০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গত ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। তার মামলার প্রেক্ষিতে, সহিংসতার ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধান করে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে ১০ জনকে আটক করে পুলিশ ও র‌্যাব। তবে এ ঘটনায় অন্যকোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও আটক ব্যক্তিদের জামাত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়, মানবজমিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত আটক ব্যক্তিদের ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে। অর্থাৎ, প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে সহিংসতার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করা হলেও এই ফটোকার্ডটি আমার দেশ প্রকাশ করেনি।

সুতরাং, ‘ময়মনসিংহে নিরপরাধ দিপু চন্দ্র দাশকে হত্যা ও আগুনে পোড়ামোর মামলায় জামায়াত ও শিবিরের ১০ জন গ্রেফতার’ শিরোনামে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: