পূর্ণিমা-লুবাবার ছবি ব্যবহার করে জামায়াতকে জড়িয়ে আমার দেশের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেনা এমন শঙ্কায় সদ্য পর্দাকারী নারী তারকারা দলটির ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে দাবিতে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ‘শরিয়তের আইন প্রতিষ্ঠা করবেনা বলে জামায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সদ্য পর্দায় ফিরে আসা তারকারা’ শিরোনামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটিতে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবার ছবি ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে তাদের দুজনের মধ্যে কে এমন মন্তব্য করেছেন সেটি ফটোকার্ডটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘শরিয়তের আইন প্রতিষ্ঠা করবেনা বলে জামায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সদ্য পর্দায় ফিরে আসা তারকারা’ শিরোনামে দৈনিক আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। এছাড়াও উল্লিখিত তারকারাও আলোচিত মন্তব্যটি করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আমার দেশের ডিজাইনের আদলে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তা আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে দৈনিক আমার দেশ এর লোগো দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬-এর উল্লেখও পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যগুলোর সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে গত ১৫ জানুয়ারি কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়নি। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলেও উল্লিখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে আলোচিত দাবিটি সমর্থিত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। এমনকি আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত নারী তারকাদের ফেসবুক পেজগুলোতেও এমন কোনো পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তবে, মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না বলে জানিয়েছেন।
এছাড়াও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়, আমার দেশের ফটোকার্ডের নিচের অংশে ‘বিস্তারিত কমেন্টে’ শীর্ষক একটি লেখা থাকে যেটি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে অনুপস্থিত।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, উক্ত ফটোকার্ডটি আমার দেশের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, জামায়াতে ইসলামীর ওপর পর্দাশীল নারী তারকারা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন দাবিতে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

