গণমাধ্যমের ডিজাইন নকল করে মাহমুদা মিতু ও নাহিদ ইসলামকে নিয়ে একাধিক সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার


সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে নিয়ে ‘মধ্যরাতে মাহমুদা মিতুকে নিয়ে হোটেল ওয়েস্টিনে নাহিদ ইসলাম’ শীর্ষক শিরোনামে কালবেলার ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এছাড়া, ‘প্রার্থিতা পা/ন/নি মাহমুদা মিতু, গভীর রাতে সান্তনা দিলেন নাইদ ইসলাম’ শীর্ষক শিরোনামে বাংলাদেশ টাইমসের ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যায়।

কালবেলার ফটোকার্ড যুক্ত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ)।

বাংলাদেশ টাইমসের ফটোকার্ড যুক্ত পোস্ট দেখুন- এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘মধ্যরাতে মাহমুদা মিতুকে নিয়ে হোটেল ওয়েস্টিনে নাহিদ ইসলাম’ শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে কালবেলা এবং ‘প্রার্থিতা পাননি মাহমুদা মিতু, গভীর রাতে সান্ত্বনা দিলেন নাইদ ইসলাম’ শীর্ষক শিরোনামে বাংলাদেশ টাইমস কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে কালবেলা ও বাংলাদেশ টাইমসের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে এই ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।

আলোচিত ফটোকার্ডগুলো আলাদা আলাদাভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

ফটোকার্ড যাচাই-১

আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে কালবেলার লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

এই সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কালবেলার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ১৫ জানুয়ারি গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ‘মধ্যরাতে মাহমুদা মিতুকে নিয়ে নাহিদ ইসলামের স্ট্যাটাস’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে। তবে প্রচারিত ফটোকার্ডের সঙ্গে কালবেলার শিরোনামের ফন্ট ডিজাইনের অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।

কালবেলার মূল ফটোকার্ডটিতে ‘মধ্যরাতে মাহমুদা মিতুকে নিয়ে নাহিদ ইসলামের স্ট্যাটাস’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘মধ্যরাতে মাহমুদা মিতুকে নিয়ে হোটেল ওয়েস্টিনে নাহিদ ইসলাম’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, কালবেলার এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত কালবেলার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেলেও চিকিৎসক ও উদীয়মান রাজনীতিবিদ ডা. মাহমুদা মিতুর পাশে দাঁড়িয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। ১৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি মাহমুদা মিতুর রাজনৈতিক ভূমিকা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন।

ফটোকার্ড যাচাই-২

আলোচিত এই ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বাংলাদেশ টাইমসের লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

এই সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাদেশ টাইমসের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ১৬ জানুয়ারি গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ‘প্রার্থিতা পা/ন/নি মাহমুদা মিতু, নাহিদ ইসলামের মন্তব্য’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। তবে প্রচারিত ফটোকার্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ টাইমসের শিরোনামের ফন্ট ডিজাইনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।

বাংলাদেশ টাইমসের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘প্রার্থিতা পা/ন/নি মাহমুদা মিতু, নাহিদ ইসলামের মন্তব্য’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘প্রার্থিতা পা/ন/নি মাহমুদা মিতু, গভীর রাতে সান্তনা দিলেন নাইদ ইসলাম’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ টাইমসের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত বাংলাদেশ টাইমসের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে নাহিদ ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতুর রাজনৈতিক ভূমিকা, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, ডা. মাহমুদা মিতু একজন চিকিৎসক এবং এ প্রজন্মের একজন সাহসী রাজনীতিবিদ। তার মতে, রাজনীতি কোনো একদিনের বিষয় নয়। এটি ধৈর্য, সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রজ্ঞার দীর্ঘ লড়াই। যে রাজনীতি জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয়, জনগণ সেই রাজনীতিকেই গ্রহণ করে।

এছাড়া নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত মূল পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে।

সুতরাং, ‘মধ্যরাতে মাহমুদা মিতুকে নিয়ে হোটেল ওয়েস্টিনে নাহিদ ইসলাম’ শিরোনামে কালবেলার নামে প্রচারিত ফটোকার্ড ও ‘প্রার্থিতা পা/ন/নি মাহমুদা মিতু, গভীর রাতে সান্ত্বনা দিলেন নাইদ ইসলাম’ শীর্ষক দাবিতে বাংলাদেশ টাইমসের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: