জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন দাবিতে যমুনা টিভির নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

গতকাল ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই প্রেক্ষিতে, ‘ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে জামায়াত কর্মি নিহত’ শিরোনামে যমুনা টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) ।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে জামায়াত কর্মি নিহত’ শিরোনামে যমুনা টিভি কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যমুনা টিভির ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাটিও সত্য নয়৷ প্রকৃতপক্ষে শেরপুরে জামায়াতের সাথে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে মূলধারার গণমাধ্যম যমুনা টিভির লোগো রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গতকাল ২৮ জানুয়ারি যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে ‘শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারির মৃত্যু’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। তবে মূল প্রতিবেদন প্রচারের আগেই ওই ফটোকার্ডটি প্রচার করা হয়েছিল।

আলোচিত ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এতে ‘কর্মি’ শব্দের বানানে ভুল রয়েছে, যা সাধারণত গণমাধ্যমের ফটোকার্ডে দেখা যায় না। একই সঙ্গে যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডগুলোতে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডে তা নেই।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

শেরপুরে কি জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে?

শেরপুরে জামায়াতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের দাবির সপক্ষে মূলধারার গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গতকাল (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসার আসন নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম মারা যান।

সুতরাং, ‘ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে জামায়াত কর্মি নিহত’ শিরোনামে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: