‘নাম মুছে ফেললেন রোজা লিখলেন রোজা হাদি’ শিরোনামে জনকণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোজার ছবি সংযুক্ত করে ‘নাম মুছে ফেললেন রোজা লিখলেন রোজা হাদি’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যম ‘জনকণ্ঠ’ এর ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন (এখানে) (আর্কাইভ)

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়,‘নাম মুছে ফেললেন রোজা লিখলেন রোজা হাদি’ শিরোনামে ‘জনকণ্ঠ’ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি বরং, জনকণ্ঠের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে জনকণ্ঠের লোগো ও এটি প্রচারের তারিখ হিসেবে ‘২০ জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে গত ২০ জানুয়ারি কিংবা অন্য কোনো তারিখে প্রকাশিত এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।

তবে, জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ২০ জানুয়ারিতে ‘নাম মুছে ফেললেন রোজা’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। ‘জনকণ্ঠের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘নাম মুছে ফেললেন রোজা’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে উক্ত বাক্যের পাশাপাশি এর পরিবর্তে ‘ লিখলেন রোজা হাদি’ শীর্ষক শব্দগুচ্ছও যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, জনকণ্ঠেরর এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সংবলিত জনকণ্ঠের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রোজা আহমেদ। তবে বছর না ঘুরতেই এসেছে তাদের বিচ্ছেদের সংবাদ। সম্প্রতি তাহসান জানিয়েছেন রোজার সঙ্গে আর তিনি থাকছেন না। দুজনের পথ যে আলাদা হয়ে গেছে সেটা আরো স্পষ্ট হলো এবার। ইনস্টাগ্রাম থেকেও তাহসানের ছবি মুছে ফেললেন রোজা। নিজের নামের সঙ্গে খান পদবী যুক্ত করেছিলেন সেটাও মুছে ফেলেছেন। রোজার ইনস্টাগ্রাম ঘেঁটে দেখা গেল, কোথাও তাহসান নেই। রোজার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের নাম ছিল রোজা আহমেদ খান। সেখান থেকে ছেঁটে দিয়েছেন খান।’

সুতরাং, ‘নাম মুছে ফেললেন রোজা লিখলেন রোজ হাদি’ শিরোনামে জনকণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: