রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে জড়িয়ে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি, জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তাকে বিদেশে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যেতে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে। বিদেশ সফরের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। এরই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ছবিসহ কালবেলার ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা গেছে। উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়, “রাস্ট্রপতির কাজে বাধা দেয়া রাস্ট্রদ্রোহীতা রাস্ট্রদ্রোহীতার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড জনস্বার্থে যে কেউ মামলা করতে পারে।”

অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে- অন্তর্বর্তী সরকারে নেতৃত্ব থাকাকালীন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতির কাজে বাধা দিয়েছেন যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল জনস্বার্থে যে কেউ মামলা করতে পারে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে কালবেলা এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালবেলার লোগো যুক্ত করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কালবেলার লোগো এবং ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান মেলেনি। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলে উল্লেখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্ট ডিজাইনের অমিল পরিলক্ষিত হয়।

সুতরাং, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে কালবেলার নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: