জকসু নির্বাচনে ভোট চুরি করতে গিয়ে ছাত্রী সংস্থার নেত্রী আটক দাবিতে আরটিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

গতকাল (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে, ‘জকসু নির্বাচনে শিবিরের হয়ে ভোট চুরি করতে ছাত্রী সংস্থার নেত্রী আটক’ শিরোনামে আরটিভির ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘জকসু নির্বাচনে শিবিরের হয়ে ভোট চুরি করতে ছাত্রী সংস্থার নেত্রী আটক’ শিরোনামে আরটিভি কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতিপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আরটিভির কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে আরটিভির লোগো এবং ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে আরটিভির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করলে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত তথ্য সংবলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ৬ জানুয়ারি আরটিভির ফেসবুক পেজে “জগন্নাথে শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হে/ন/স্তা” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই ফটোকার্ডটিতে ‘জগন্নাথে শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হে/ন/স্তা’ শীর্ষক বাক্য রয়েছে, যা আলোচিত ফটোকার্ডে পরিবর্তন করে ‘জকসু নির্বাচনে শিবিরের হয়ে ভোট চুরি করতে ছাত্রী সংস্থার নেত্রী আটক’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, আরটিভির এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সংবলিত আরটিভির মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তার অভিযোগ উঠে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থী পরিচয়ে একদল যুবক এ ঘটনা ঘটায়। হেনস্তার শিকার মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের বাইরে তিনি হিজাব ও নিকাব অবস্থান করছিলেন। এসময় একদল যুবক তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের কাছে তুলে দেন। যদিও পুলিশ পরে তাকে ছেড়ে দেয়।

পাশাপাশি, আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ‘জকসু নির্বাচনে শিবিরের হয়ে ভোট চুরি করতে ছাত্রী সংস্থার নেত্রী আটক’ শিরোনামে আরটিভির নামে প্রচারিত প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: