প্রথম আলোর নামে তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট-ফটোকার্ডে অন্তর্বর্তী সরকারের তিন কর্মকর্তাকে জড়িয়ে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

সম্প্রতি মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর লোগো ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ফটোকার্ডে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচার, লুটপাট ও আত্মসাতের অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

সদ্য বিদায়ী আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে একটি ফটোকার্ডে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, “তিন দেশে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ নজরুল”। এ ধরনের পোস্টের মন্তব্যঘরে prothom-alo.online নামের একটি ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করে সেখানে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি করা হয়েছে।


এছাড়া সদ্য বিদায়ী সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে নিয়ে আরেকটি ফটোকার্ডে বলা হয়েছে, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের ১১০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ফারুকীর বিরুদ্ধে”।

একইভাবে সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে ঘিরে প্রচারিত আরেক ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “সাবেক প্রেস সচিব শফিকের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ”।

পরবর্তী দুই ক্ষেত্রেও একই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনের পৃথক লিংক (,) যুক্ত করা হয়েছে।

একই দাবিতে টিকটক প্রাচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত তিনটি ফটোকার্ডের কোনোটিই প্রথম আলো প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, প্রথম আলোর লোগো ব্যবহার করে এবং সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটের আদলে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ফটোকার্ডগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানের সুবিদ্ধার্থে ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করা হয়।

ড. আসিফ নজরুলকে ঘিরে ফটোকার্ড

আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডে প্রথম আলোর লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ কিংবা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। একই শিরোনামে কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যমটি।

ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টের মন্তব্যঘরে বিস্তারিত প্রতিবেদনের দাবি করে একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হলেও সেখানে কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে ফটোকার্ড

ফারুকীকে নিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডেও প্রথম আলোর লোগো রয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২০ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ দেখা যায়। তবে প্রথম আলোর কোনো প্ল্যাটফর্মে এমন শিরোনামের ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এ ক্ষেত্রেও পোস্টের মন্তব্যঘরে দেওয়া লিংকে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শফিকুল আলমকে ঘিরে ফটোকার্ড

শফিকুল আলমকে নিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডেও প্রথম আলোর লোগো এবং ২০ ফেব্রুয়ারির তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম আলোর কোনো প্ল্যাটফর্মে এমন শিরোনামের ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টের মন্তব্যঘরে দেওয়া লিংকেও কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

তিনটি ফটোকার্ডের পোস্টেই prothom-alo.online নামের একটি ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করা হয়েছে। তবে যাচাই করে দেখা যায়, এটি প্রথম আলোর নামে তৈরি একটি ভুয়া ওয়েবসাইট। প্রথম আলোর প্রকৃত ওয়েবসাইটের ঠিকানা prothomalo.com, যা নিবন্ধিত হয়েছে ২০০১ সালের ১৮ মে। অন্যদিকে আলোচিত ভুয়া ওয়েবসাইটটি নিবন্ধিত হয়েছে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর।

ভুয়া ওয়েবসাইটটিতে গেলে “সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন” ধরনের একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে ক্লিক করলে বিভিন্ন জুয়ার ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করা হয়, যা ব্যবহারকারীর আর্থিক ক্ষতি, তথ্য চুরি বা হ্যাকিংসহ নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে প্রথম আলোর অনলাইন বিভাগের প্রধান শওকত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিশ্চিত করেন, আলোচিত ফটোকার্ড বা ওয়েবসাইটের সঙ্গে প্রথম আলোর কোনো সম্পর্ক নেই।

সুতরাং, প্রথম আলোর লোগো ও ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ভুয়া সাইট ব্যবহার করে প্রচারিত আলোচিত তিনটি ফটোকার্ডই ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

  • Prothom Alo: Facebook Page
  • Rumor Scanner’s analysis.
  • Statement from Shawkat Hossain, Head of Online, Prothom Alo.
Share: