ইরানকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কিম জং উনের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষিতে কতিপয় গণমাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বলেছেন, ‘যদি ইরান চায়, আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করব, ইসরায়েলকে মুছে ফেলার জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট।’

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ: নাগরিক টিভি (ফেসবুক), যুগান্তর (ফেসবুক) আমাদের সময়, খবর সংযোগ, রূপালী বাংলাদেশ, ডেইলি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ টাইমস, চ্যানেল ওয়ান নিউজ (ইউটিউব)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইরানকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আলোচিত মন্তব্য করেননি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘China Live’ নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্টে আলোচিত দাবির সম্ভাব্য মূল সূত্রপাত পোস্টটি গত ৩ মার্চ রাত ১ টা ২৫ মিনিটে প্রচার হতে দেখা যায়। পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। উক্ত এক্স অ্যাকাউন্টটি কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমেরও এক্স হ্যান্ডল নয়। অ্যাকাউন্টের বায়োতে বলা হয় এতে চীন সম্পর্কিত ও বিশ্বরাজনীতির খবর প্রকাশ করা হয়। কিন্তু, এক্স অ্যাকাউন্টটির ‘অ্যাবাউট’ সেকশনে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টটি পশ্চিম এশিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অপরদিকে, চীন পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। এছাড়াও, অ্যাকাউন্টটি গতমাসেই তৈরি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে, গত ৩ মার্চ রাত ৪ টা ৭ মিনিটে ‘中華微視’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই দাবি প্রচার করা হয় যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। কিন্তু, এতেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার সরকারি বিবৃতির বিষয়ে অনুসন্ধানে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কেসিএনএ’ এর ওয়েবসাইটে গত ১ মার্চে ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের একটি বিবৃতি পাওয়া যায়। তাতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং এই হামলাকে অবৈধ আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সবচেয়ে জঘন্যতম রূপ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে পুনরায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে এই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। তবে বিবৃতিতে বা ‘কেসিএনএ’ এর ওয়েবসাইটে কিম জং উনের আলোচিত মন্তব্য করার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও, অনুসন্ধানে ‘কেসিএনএ’ এর ওয়েবসাইটে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরবর্তী সময়ে গত ২ মার্চ৩ মার্চে উত্তর কোরিয়ার প্রধান সংবাদপত্রগুলোর শীর্ষ সংবাদ ও নিবন্ধসমূহের রিভিউ পাওয়া যায়। তাতে কিম জং উনের কার্যক্রমসহ নানা শীর্ষ সংবাদের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে কোথাও আলোচিত দাবির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি, গুগলে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ‘যদি ইরান চায়, আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করব, ইসরায়েলকে মুছে ফেলার জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: