শূকরের মাংস নিয়ে আহমাদুল্লাহর একাধিক ভুয়া মন্তব্য প্রচার, ব্যবহার হয়েছে গণমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ডও

গত ০১ মে জাতীয় দৈনিক কালবেলা “নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানি করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহরকে জড়িয়ে একাধিক বক্তব্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। এরমধ্যে “শুকুরের মাংস হারাম এ বিষয়ে কোনো দলিল নেই, প্রোফেসর ইউনুসের বানিজ্য চুক্তি হালাল” শীর্ষক বক্তব্য যুক্ত করে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম একাত্তর টিভির একটি ফটোকার্ডও প্রচার হতে দেখা যায়।

একাত্তর টিভির ফটোকার্ড যুক্ত করে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
“ডঃ ইউনুস একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি, উনি ভেবে চিন্তেই শুকরের মাংস আনবে। আর শুকর তো আল্লাহ্ এর ই তৈরি” শীর্ষক মন্তব্যটি আহমাদুল্লাহর দাবিতে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
“মনে রাখবেন শুধু শুকরের মাংস না, অন্য দেশের সাথে চুক্তির মাধ্যমে আনা যে কোন মাংস খাওয়া যায়েজ আছে, এটা হারাম হবে না।” শীর্ষক মন্তব্যটি আহমাদুল্লাহর দাবিতে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি কিংবা শূকরের মাংস হালাল সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ করেননি এবং আলোচিত ফটোকার্ডটিও একাত্তর টিভি প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আলোচিত মন্তব্যগুলো প্রচার করা হচ্ছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর আলোচিত মন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি প্রচার করা হয়েছে একাত্তর টিভির লোগো যুক্ত একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে। শুরুতেই এটি যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার। যেহেতু প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে একাত্তর টিভির লোগো রয়েছে সেই সূত্র ধরে একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়নি। এমনকি একাত্তর টিভির ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলেও এসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, একাত্তর টিভি কর্তৃক প্রকাশিত ফটোকর্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটিতে থাকা ফন্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুইটির মধ্যে ব্যবহৃত ফন্টের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

পরবর্তীতে “ডঃ ইউনুস একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি, উনি ভেবে চিন্তেই শুকরের মাংস আনবে। আর শুকর তো আল্লাহ্ এর ই তৈরি” শীর্ষক মন্তব্যটি আহমাদুল্লাহর দাবিতে একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা যায়। প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া যায়নি। এমনকি আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে উক্ত দাবিটির সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার। অনুসন্ধানে ‘Gojob Vision’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ০১ মে বিকেলে ০৪টা ৪৪ মিনিটে প্রচারিত সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, উক্ত পোস্টে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
‘Gojob Vision’ নামক ফেসবুক পেজটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি একটি সার্কাজম পেজ। এছাড়া, পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে “মনে রাখবেন শুধু শুকরের মাংস না, অন্য দেশের সাথে চুক্তির মাধ্যমে আনা যে কোন মাংস খাওয়া যায়েজ আছে, এটা হারাম হবে না।” শীর্ষক মন্তব্যটিও আহমাদুল্লাহর নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহমাদুল্লাহর মত ইসলামিক আলোচক প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলে তা গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ হতো। কিন্তু গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে এমন মন্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে শূকরের মাংস হালাল সংক্রান্ত আহমাদুল্লাহর নামে প্রচারিত বক্তব্যগুলো ভুয়া।
তথ্যসূত্র
- Ekattor Tv- Facebook Page
- Ekattor Tv- Website
- Ekattor Tv- YouTube Channel
- Ahmadullah- Facebook Account
- Gojob Vision- Facebook Post
- Gojob Vision- Facebook Page

