‘শুকরের মাংস খাওয়াও জায়েজ আছে’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি মামুনুল হক

গত ০১ মে জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ “নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন ড. ইউনূস” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে উদ্ধৃত করে একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে তিনি বলেছেন, ‘কোরআনে উল্লেখ আছে যে চরম বিপদের অথবা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলে, নিষিদ্ধ খাবার যেমন শুকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি আছে, এমতাবস্থায় শুকরের মাংসের বিনিময়ে স্বৈরাচার রুখে দেয়ার জন্য হলেও আমাদের শুকরের মাংস খাওয়াও জায়েজ আছে’। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত মন্তব্যটি মামুনুল হক করেননি। প্রকৃতপক্ষে, তার নামে এই মন্তব্যটি প্রথমে ছড়ানো হয় নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক পেজ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ‘ব্যঙ্গবাজার’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। পরবর্তীতে ওই ভুয়া ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটিকেই তার আসল মন্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়।

দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৭ এপ্রিল ‘ব্যঙ্গবাজার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে মামুনুল হকের নামে আলোচিত মন্তব্যটি প্রচার করা হয়। পেজটির পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে, ‘ব্যঙ্গ যারা বুঝে তাদের জন্য’। এছাড়া পেজটির ক্যাটাগরিতেও ‘Satire/Parody’ লেখা আছে। পেজটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ঘিরে ব্যঙ্গাত্মক ও ভুয়া মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।

স্বাভাবিকভাবেই, মামুনুল হক যদি শুকরের মাংস খাওয়া ঘিরে এমন মন্তব্য করে থাকতেন, তবে তা দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হতো এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ বা ভিডিওর অস্তিত্ব মেলেনি।

অর্থাৎ, সার্কাজম বা ব্যঙ্গাত্মকভাবে মামুনুল হকের নামে তৈরি করা একটি ভুয়া মন্তব্য পরবর্তীতে তার আসল বক্তব্য হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং, শুকরের মাংস খাওয়া নিয়ে মামুনুল হকের নামে প্রচারিত আলোচিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: