আনন্দবাজারের বরাতে তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া মন্তব্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের 

গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাবি করেন, ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করেছেন। প্রথমত, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল যারা, তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র কিনতে হলে ভারতের অনুমতি নিতে হবে এবং ভারতের অনুমতি ছাড়া কোনো অস্ত্র কেনা যাবে না। তৃতীয়ত, এ দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোকে দমন করতে হবে।

এরূপ দাবিতে সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বক্তব্যের ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের সাথে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির প্রধান তারেক রহমান তিনটি শর্তে চুক্তি করেছেন মর্মে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আনন্দবাজার পত্রিকার বরাতে আলোচিত দাবিটি করেছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে আনন্দবাজার পত্রিকা বা পত্রিকাটির বরাতে অন্য কোনো দেশি বা ভারতীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যমে আলোচিত দাবির অনুরূপ কোনো সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার ওয়েবসাইটে অন্তত গত ১ বছরে তারেক রহমানের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেও এরূপ কোনো দাবি পাওয়া যায়নি। তারেক রহমান ও ভারতের বিষয়ে আনন্দবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী এমন তথ্যই বারবার জোর পেয়েছে।

এছাড়া, আওয়ামী লীগের প্রতি তারেক রহমানের বিরূপ অবস্থানের উল্লেখ করে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের নজিরও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৮ অক্টোবর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া তারেক রহমানের এক সাক্ষাৎকারের বরাতে তাকে উদ্ধৃত করে আনন্দবাজারে ‘স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়েছে দিল্লি’ শিরোনামে আনন্দবাজারে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে আলোচিত দাবির অনুরূপ ভারতের সঙ্গে তারেক রহমান কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন এমন দাবির বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় তারেক রহমানের বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের থেকেই সমান দূরত্ব রেখে নির্বাচনী প্রচার শুরু তারেকের।

আনন্দবাজার এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কিনা তা জানতে পত্রিকাটির সাংবাদিক অগ্নি রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, আনন্দবাজার এমন কোনো খবর ছাপেনি।

তাছাড়া, আওয়ামী লীগের বিষয়ে তারেক রহমানের অবস্থান জানতে অনুসন্ধানে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত তার একটি সাক্ষাৎকারের অংশ পাওয়া যায়। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দল হিসেবে তারা (আওয়ামী লীগ) যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের আইন সিদ্ধান্ত নেবে।.. সোজা কথায় অন্যায়কারীর বিচার হতে হবে। তো সেটি ব্যক্তি হোক, সেটি দলই হোক। যারা জুলুম করেছে তাদের তো বিচার হতে হবে। সেটি ব্যক্তিও হতে পারে। সেটি দলও হতে পারে।’

উল্লেখ্য, এর আগে আনন্দবাজার পত্রিকার বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের বিষয়ে ভারত ও তারেক রহমানের মধ্যে কথিত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে অনুরূপ মন্তব্ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির করলে বিষয়টি মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, আনন্দবাজার পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনটি শর্তে ভারত ও তারেক রহমানের মধ্যে কথিত চুক্তি স্বাক্ষরের যে বক্তব্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের দিয়েছেন, তা ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: