সম্প্রতি,’বর্তমানে দেশে যে লোডশেডিং হচ্ছে আয়না ঘরেও এতো লোডশেডিং হতো না, – সারাক্ষন এসি চলতো’ শিরোনামে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে উদ্ধৃত করে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে।
একই দাবির পোস্ট দেখুন টিকটকে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত মন্তব্যটি আবদুল্লাহিল আমান আযমী করেননি। বরং, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই মন্তব্যটি তার নামে প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে তার এমন মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তার ফেসবুক প্রোফাইলেও এমন বক্তব্যের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তিনি এমন মন্তব্য করে থাকলে এসব সূত্রে তা পাওয়া যেত।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ১৩ এপ্রিল কালবেলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি বলেন, তাকে যে কক্ষে বন্দি রাখা হয়েছিল তার বর্ণনা তিনি কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে দিয়েছেন। ওই কক্ষের আয়তন ২১×১৭ ফুট এবং সেখানে এসি লাগানো হয়েছিল ২০২৩ সালের ৮ জুন। তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ৬ জুন তিনি মৃতপ্রায় হয়ে পড়লে গুরুতর অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে এসি লাগানো হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর তিনি এসিবিহীন কক্ষে ছিলেন।
কালবেলায় প্রকাশিত এই বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আলোচিত মন্তব্যটি সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে আমান আযমীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিশ্চিত করেন, এ ধরনের কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।
সুতরাং, লোডশেডিং নিয়ে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Abdullahil Amaan Azmi – Facebook account
- Kalbela – আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে গুমের ৭ বছর পর এসি লাগানো হয় : আযমী
- Statement from Abdullahil Amaan Azm


