সম্প্রতি, জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের বরাতে একটি ঘটনার বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি হচ্ছে– চাঁদপুর মতলব থানা রইচাপূর ইউনিয়নে ১১ বছরের সাওয়ান নামের এক শিশু বাবার সাইলেন্স করা পিস্তল থেকে চারটি গুলি চালিয়েছেন। বাবা- মা বাড়িতে না থাকায় দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় বাড়িতে আসে এবং সাফওয়ানের বোনকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। এমন সময় সাফওয়ান স্কুল থেকে বাড়িতে এসে বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখন বোনের প্রতিশোধ নিতে বাবার সাইলেন্স করা পিস্তল থেকে চারটি গুলি চালিয়েছে ধর্ষককে হত্যা করে। পরবর্তীতে শিশুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও তথ্য দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত ফটোকার্ড পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফেসবুকে প্রচারিত ছবি পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
এক্সপ্রেশন ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক কিংবা অন্য কোনো গণমাধ্যম এমন কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেনি, এমনকি চাঁদপুরে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, ভুয়া একটি গল্পের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার দুইটি ছবি যুক্ত করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচিত দাবিটি যেহেতু জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের বরাতে প্রচার করা হচ্ছে সেহেতু শুরুতে আমরা এই দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করি। অনুসন্ধানে ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে এসংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি ইত্তেফাকের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলেও এসংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিটির সাথে একটি শিশুকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের নিয়ে যাওয়ার একটি ছবি ও জনতা জটলা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি প্রচার হতে দেখা যায়।
ছবি দুইটি আলাদা আলাদাভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।
অনুসন্ধানে একুশে টিভির প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওতে থাকা শিশুর চেহারা, পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, পাশের পুলিশ সদস্যদের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিতে থাকা শিশুর সকল উপাদানের মিল রয়েছে।

আরিফুল ইসলাম তার পোস্টের ক্যাপশনে বলেছেন, ‘মায়ের মামলায় ছেলে কারাগারে।’
পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে তিনি উক্ত ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি মন্তব্য করেন।

উক্ত মন্তব্য থেকে জানা যায়, শিশুটির নাম- মো: বিজয়, বয়স ১৮ বছর। মায়ের নাম- জাহানারা বেগম, বাসা- রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায়। ছেলে মাদকাসক্ত হওয়ায় মা জাহানারা বেগম ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় ছেলে মো: বিজয়কে কারাগারে নেওয়া হয়।
একই ঘটনা নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর আরিফুল ইসলাম একটি পোস্টও করেন। সেখানেও তিনি উক্ত ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে চ্যানেল আই এবং বার্তা২৪ এর ফেসবুক পেজেও একই তথ্যে আলোচিত ভিডিওটি প্রচার করতে দেখা যায়।
এছাড়া, উক্ত ভিডিওটি এর আগেও ভিন্ন দাবিতে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিউমর স্ক্যানার।
অর্থাৎ, আলোচিত দাবির সাথে উক্ত ছবির কোনো সম্পর্কই নেই।
পরবর্তীতে উক্ত দাবির সাথে প্রচারিত দ্বিতীয় ছবিটি অর্থাৎ, জনতার জটলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার। অনুসন্ধানে শিমুল আহমেদ ব্লগ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির মিল রয়েছে।

Comparison By Rumor Scanner
ব্লগটি বিশ্লেষণ এবং ক্যাপশনে থেকে জানা যায়, মেহেরপুরের গাংনী ইকো পার্কে পর্যটকদের খেলাধুলার ইভেন্টের ভিডিও এটি।
অর্থাৎ, এটির সাথেও আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
চাঁদপুরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না সে বিষয়ে জানতে চাঁদপুরের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার।
‘এখন টিভি’র চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি তাহলা জুবায়ের বলেন, ‘এমন ঘটনা সম্পর্কে জানা নাই। দাবিটি ভুয়া মনে হচ্ছে।’
আলোচিত দাবিটি ইত্তেফাকের বরাতে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু, দৈনিক ইত্তেফাকের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি শাহরিয়ার পলাশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনায় করেনি। এটি একটি গুজব, ভুয়া তথ্য। ইত্তেফাকে এমন কোনো সংবাদও পাঠানো হয়নি।’
সুতরাং, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ছবি যুক্ত করে সম্প্রতি চাঁদপুরে ১১ বছরের এক শিশু বোনের ধর্ষককে গুলি করে মেরে ফেলেছেন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Ariful Islam- Facebook Post (1, 2)
- Channel i- Report
- Barta 24- Facebook Post
- Rumor Scanner- পলাতক মহিলা লীগ নেত্রীর নামে দায়ের করা মামলায় শিশু সন্তানকে গ্রেফতারের দাবিটি সঠিক নয়
- Shimul Ahmed Vlog- Youtube Video
- Local Journalist’s Statement


