সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে চট্টগ্রামে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’ হামলা চালিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ একদল মানুষ একটি বাড়ির ফটকের সামনে হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে এবং তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালাচ্ছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনে হামলার দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি সাভারে একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাসভবনে ছাত্র ও স্থানীয় জনতার হামলার দৃশ্য।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, মূলধারার গণমাধ্যম বৈশাখী টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিও থেকে জানা যায়, এটি সাভারে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ছাত্র-জনতার হামলার দৃশ্য। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি, বাড়ির ফটকের ডিজাইন, শব্দ সবকিছুই প্রচারিত ভিডিওর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাভারের দুই আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম ও ফখরুল আলমের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ঘটনার একপর্যায়ে ভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয় নিয়ে ছাত্র-জনতার সঙ্গে স্থানীয় লোকজন বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে সেখানে শতাধিক স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ভাঙচুর করতে আসা ছাত্র-জনতাকে ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় তারা কয়েকজনকে ধরে পিটুনিও দেন।
এছাড়া, বাংলানিউজ২৪-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ড. ইউনূসের গ্রামের বাড়ির ছবির সাথে প্রচারিত ভিডিওতে থাকা বাড়ির কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, চট্টগ্রামে ড. ইউনূসের বাড়িতে হামলা দাবিতে সাভারে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Boishakhi Television – সাভারে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাংচুরের সময় ছাত্র জনতার ওপর হামলা
- Prothom Alo – সাভারে আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়ি ভাঙচুর
- BanglaNews.24 – ড. ইউনূস আসবেন গ্রামের বাড়ি


