ব্যারিস্টার সুমন যুবলীগের সভাপতি হয়েছেন দাবিতে ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার

সম্প্রতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার হতে দেখা যায়। বিজ্ঞপ্তিটিতে “বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনার জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, দীর্ঘ অপশাসন মোকাবিলায় যুবলীগকে গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূল কর্মীদের আস্থার প্রতীক ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন কে সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।” শীর্ষক লিখা রয়েছে। 

এই সূত্র ধরে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একাধিক পোস্ট দিতেও দেখা যায়।

এছাড়া, ব্যারিস্টার সুমন সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে বৈঠক করেছেন দাবিতে একটি ছবিও প্রচার হতে দেখা যায়।

উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সায়েদুল হক সুমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নতুন সভাপতি হওয়ার দাবিটি সঠিক নয় এবং যুবলীগের নামে প্রচারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিও যুবলীগ কর্তৃক দেওয়া হয়নি। এছাড়া তার বৈঠকের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া এবং প্রচারিত বৈঠকের ছবিটিও সম্পাদিত।

শুরুতে যুবলীগের নতুন সভাপতি মনোনীত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম। অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আওয়ামী লীগযুবলীগের ফেসবুক পেজেও এসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আলোচিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম। অনুসন্ধানে দেখা যায়, যুবলীগ কর্তৃক প্রকাশিত প্যাডের (, ) সাথে আলোচিত প্যাডটির ডিজাইনে অমিল রয়েছে। এছাড়া, প্রচারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে যুবলীগের দপ্তর সম্পাদকের নাম মো: মোস্তাফিপুর রহমান মাসুদ লিখা থাকলেও যুবলীগের দপ্তর সম্পাদকের নাম মূলত মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ।

অর্থাৎ, প্রচারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিও ভুয়া।

এরপর, দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বৈঠক করার দাবিতে প্রচারিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম। অনুসন্ধানে চেক রিপাবলিকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রকাশিত একটি ছবি পাওয়া যায়। উক্ত ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড, সামনে থাকা গ্লাস-বোতল, ছবির বাম পাশের মানুষগুলোর সাথে আলোচিত ছবির এসব উপাদানের মিল রয়েছে।

উক্ত ছবিতে ব্যারিস্টার সুমনের জায়গায় অন্যজনকে দেখা যায় এবং আলোচিত ছবিতে দীপু মনিকে দেখা না গেলেও এই ছবিতে দীপু মনিকে দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ছবিতে ভিন্ন দুই ব্যক্তির জায়গায় ব্যারিস্টার সুমন এবং ভিন্ন আরেক ব্যক্তির ছবি বসানো হয়েছে।

এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, সায়েদুল হক সুমন এখনো কারাগারে আছেন। সেই প্রেক্ষিতে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে; বৈঠকের দাবিটিও মিথ্যা।

সুতরাং, যুবলীগের নতুন সভাপতি সায়েদুল হক সুমন দাবিতে প্রচারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া এবং বৈঠকের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: