হিন্দুদের দোকানে মিষ্টান্ন খাবারে গোবর মেশানোর গুজব

সম্প্রতি একজন দোকানদারের মিষ্টান্ন খাবার তৈরির ভিডিওতে ব্যবহৃত সবুজ রঙের বস্তুকে গোবর দাবি করে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়।

মিষ্টান্ন

ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

যা দাবি করা হচ্ছে:

হিন্দুদের মিষ্টির দোকানের মিষ্টান্ন খাবারে গোবর মেশানো হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি ভিডিওটি ১৩ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে। ২৭ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মিষ্টান্নজাতীয় খাবার বানাতে উক্ত দোকানদারের ব্যবহৃত গোবর সদৃশ বস্তু আদতে গোবর নয়, বরং এটি ভাং নামের এক ধরণের নেশাজাতীয় দ্রব্যের পেস্ট।

পোস্টকারী ক্যাপশনে হিন্দুদের মিষ্টান্নজাতীয় খাদ্য তৈরিতে গোবরের ব্যবহার ইঙ্গিতে বুঝালেও একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে গাঢ় সবুজ রংয়ের বস্তুটিকে তিনি সরাসরি “প্রসেসিং করা গোবর” বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে Nashik Traveller নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৭ মার্চ তারিখে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়৷ যার একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

প্রচারিত ভিডিওটি ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের হলেও এই ভিডিওটি ৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও। আলোচিত ভিডিওটি যে ক্রপ করে নেওয়া তা ভিডিওটির ডানপাশের নিচ কোণায় ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার Inshot এর ওয়াটারমার্ক দেখেও নিশ্চিত হওয়া যায়। 

ভিডিওটির ক্যাপশনে “Bhang Making | Ancient Indian Drink” শিরোনাম লক্ষ্য করা যায়৷

ভাং বলতে কি জাতীয় খাবার বোঝানো হয়েছে তা জানার চেষ্টা করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভাংয়ের পানীয় কিংবা মিষ্টান্ন খাবার ভাং, দুটোই ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে জড়িত। এটিকে হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেবতা শিবের ইতিহাসের সাথেও মেলানো হয়। তাছাড়া, হোলি উৎসবে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি প্রচলন৷ ভাংয়ের পেস্ট বানানোর জন্য Cannabis Plant থেকে পাতা সংগ্রহ করে সেটাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে, আগুনে তাপ দিয়ে, পিষে, ধাপে ধাপে পেস্ট বানানো হয়ে থাকে। এটি পরবর্তীতে ভাংয়ের নানা পদে ব্যবহার করা হয়।

ভিডিওটির দাবি অনুয়ায়ী, মূলত একজন দোকানদার কীভাবে গাঢ় সবুজ রংয়ের ভাংয়ের পেস্টসহ আরো উপকরণ দিয়ে মিষ্টান্ন খাবার ভাং বানাচ্ছেন তার প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে।

আলোচিত দাবির বিষয়ে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য রিউমার স্ক্যানার টিম ভাংয়ের পেস্ট বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান করলে ইউটিউবে এ বিষয়ে একটি ভিডিও খুঁজে পায়। সেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভাংয়ের পেস্ট বানানোর প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বর্ণনা সহ দেখানো হয়েছে এবং সবশেষে উৎপন্ন ভাংয়ের পেস্টের সাথে আলোচিত ভিডিওটিতে গোবর বলে দাবিকৃত বস্তুর সাথে হুবহু মিল পাওয়া যায়।

মূলত, ভারতের অন্যতম প্রাচীন ভাংয়ের মিষ্টান্ন খাবার তৈরিতে উপাদান হিসেবে গাঢ় সবুজ রংয়ের ভাংয়ের পেস্ট ব্যবহারের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়। আলোচিত ভিডিওটিতে গাঢ় সবুজ রংয়ের ভাংয়ের পেস্টকে গোবর বলে দাবি করা হয়েছে।

সুতরাং, আলোচিত ভিডিওটিতে হিন্দুরা মিষ্টান্নজাতীয় খাদ্য বা পানীয় তৈরিতে গোবর ব্যবহার করার দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: