সম্প্রতি ২০২৬ সালে শবে মেরাজ, সরস্বতী পূজা, ২১ ফেব্রুয়ারি, মে দিবস, বুদ্ধপূর্ণিমা, পবিত্র আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়ার ছুটি বাংলাদেশ সরকার বাতিল করেছে দাবিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন দেখুন: খবরের কাগজ, বাংলাদেশের খবর (ফেসবুক), মানবকণ্ঠ, ইত্তেফাক, যুগান্তর, এখন টিভি, আমাদের বার্তা, রূপালী বাংলাদেশ, তিস্তা ২৪, উন্নয়ন সংবাদ, সবার দেশ।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রতারিত প্রতিবেদন দেখুন: কলকাতা টিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, দৃষ্টিভঙ্গি, আনন্দবাজার, টিভি নাইন, ওঙ্কার বাংলা, জি নিউজ, নিউজ ব্যানগার্ড (ফেসবুক), নিউজ ১৮ বাংলা, রিপাবলিক বাংলা, এই মুহূর্তে, বিশ্ব বাংলা সংবাদ, নজর বন্দি, স্যন্দন পত্রিকা, আজতক বাংলা, বর্তমান, কলকাতা নিউজ (ফেসবুক)।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে দেখুন– ইউএস বাংলা২৪।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন– এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন– এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত পোস্ট দেখুন– এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিটি ভারতীয় সনাতনী সংস্থা সনাতন প্রভাবের ওয়েবসাইট থেকেও প্রচার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মে দিবসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের ছুটি বাতিল করার দাবি সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, এসব দিবস সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় আলাদাভাবে ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যম ও বিশ্বস্ত সূত্রে এবছরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মে দিবস সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিনে ছুটি বাতিল করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের মিটিয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়৷
পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এ বছরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনটি খুঁজে পায় রিউমর স্ক্যানার টিম। প্রজ্ঞাপনটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) শবে মেরাজ, ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা, ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১ মে (শুক্রবার) মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), ২৬ জুন (শুক্রবার) পবিত্র আশুরা (মহররম), ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) শুভ জন্মাষ্টমী, ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) মধু পূর্ণিমা এবং ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) শুভ মহালয়া—এই দিবসগুলোর বিপরীতে ছুটির দিন সংখ্যা ‘শূন্য’ উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, যেসব সরকারি ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার)-এর সঙ্গে মিলেছে, সেগুলো নতুন করে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়নি।
এছাড়া, গত বছরের (২০২৫ সাল) সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে ১৫ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) শবে বরাত, ২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১২ এপ্রিল (শনিবার) বৈসাবি, ১৬ আগস্ট (শনিবার) শুভ জন্মাষ্টমী এবং ৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলাদাভাবে নতুন ছুটি গণনা করা হয়নি।

এমনকি ২০২৪ সালের ছুটির তালিকাও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কোনো সরকারি ছুটি পড়লে সেটি অতিরিক্ত বন্ধের দিন হিসেবে গণ্য করা হয় না।

২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনের নিচে উল্লিখিত শর্তাবলির মধ্যেও উল্লেখ রয়েছে, ‘সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) ব্যতীত বছরে মোট ছুটি থাকবে ৬৪ দিন’ এবং ‘জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ যথা: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, বাংলা নববর্ষ ও ১৬ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় বিদ্যালয়ে উদযাপন করতে হবে’।

অর্থাৎ, ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটি বাতিল করা হয়নি; বরং ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, বাংলা নববর্ষ ও ১৬ ডিসেম্বরসহ জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, বাংলাদেশ সরকার এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মে দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিবসের ছুটি বাতিল করেছে শীর্ষক দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo- জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঘোষিত ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল
- BSS- ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটি বাতিল
- 2026 Holiday Govt. Notice
- 2025 Holiday Govt. Notice
- 2024 Holiday Govt. Notice


