গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরে সরাইলের নোয়াগাও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় আচরনবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী সভা করার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরবর্তীতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে, রুমিন ফারহানা গ্রেফতার হলেন দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
উক্ত পোস্টটি ৫১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে।
একই দাবির ইউটিউব ভিডিও দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রুমিন ফারহানা গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সঠিক নয় বরং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ফুটেজ যুক্ত করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে রুমিন ফারহানা গ্রেফতার হওয়া সংক্রান্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
তবে, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনের একাধিক ভিডিও প্রচার করেছে গণমাধ্যমগুলো। দেখুন: এনটিভি, বিডিনিউজ২৪, সময় টিভি।
এছাড়া, রুমিন ফারহানাকে তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া একটি পোস্টে দেখা যায়, তিনি নিজ নির্বাচনী আসনে জনসভা করছেন। পাশাপাশি, নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পোস্ট করতেও দেখা যায়। পোস্ট দেখুন- এখানে, এখানে।
এরপর উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলোতে গ্রেপ্তারের যে দৃশ্যগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো যাচাই করে দেখা যায়, এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও/ছবি।
সুতরাং, রুমিন ফারহানা গ্রেফতার হয়েছেন শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo- এক অপরাধে তিন সাজা, এই প্রশাসনের অধীনে কেমন করে নির্বাচন করি: রুমিন ফারহানা
- Ntv- Video
- Bdnews24- Video
- Somoy Tv- Video
- Rumeen Farhana– Facebook Post (1, 2, 3)
- Hive Detect Analysis


