সম্প্রতি, জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের বরাতে ‘শেখ হাসিনার সময় দেনা ছিল দুই লক্ষ কোটি টাকা এ বছর উপনীত হয়েছে তেইশ লক্ষ কোটি টাকার উপরে!’ শীর্ষক মন্তব্যকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন করেছেন দাবিতে একটি তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইত্তেফাকের সূত্রে প্রচারিত ‘শেখ হাসিনার সময় দেনা ছিল দুই লক্ষ কোটি টাকা এ বছর উপনীত হয়েছে তেইশ লক্ষ কোটি টাকার উপরে’ শীর্ষক মন্তব্যটি বাণিজ্য উপদেষ্টা করেছেন দাবিটি সঠিক নয় বরং, বাণিজ্য উপদেষ্টার ২০০৮ সালের পর থেকে সামগ্রিক সময়ের দেনার প্রেক্ষিতে দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃত করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে খবরের কাগজের ওয়েবসাইটে গত ২৬ জানুয়ারি “গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি আমদানি: বাণিজ্য উপদেষ্টা” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির ১০তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তখন তিনি বলেন, ২০০৮ সালে যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন তখন আন্তর্জাতিক দেনা ছিল ২ লাখ কোটি টাকা। সেটা এ বছর এসে উপনীত হয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকার উপরে। এই যে সামগ্রিক দায়, এর জন্য আমাদের টাকার যে মূল্যমান কমেছে, সেটা ৪৬ ভাগ। আমাদের বিনিয়োগ হতে হবে, ব্যয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি করতে হবে। আমরা ঋণভিত্তিক যে ব্যয়গুলো করেছি তা আমার আয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি করতে পারেনি।
অর্থাৎ, এখানে তিনি ২০০৮ সালের পর থেকে এবছর অর্থাৎ চলতি বছর পর্যন্ত সময়কে বুঝিয়েছেন।
উক্ত বক্তব্যের একটি ভিডিওও নিউজ ২৪ এর ইউটিউব চ্যানেলেও পাওয়া যায়। সেটি বিশ্লেষণ করেও দেখা যায়, বাণিজ্য উপদেষ্টা ২০০৮ সালের পর থেকে এপর্যন্ত সামগ্রিক সময় বোঝাতেই বক্তব্যটি দিয়েছেন।
একই বক্তব্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে: প্রথম আলোও।
সুতরাং, ২০০৮ সালের পর থেকে এপর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের মোট দেনা বোঝাতে চেয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টাের দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃত করে এবছরেই ২৩ লাখ কোটি টাকা দেনা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।


