রংপুর বিভাগের গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের একটি বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু নির্মাণকাজও সম্পন্ন হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এটি ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ হবে। তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। একই সঙ্গে ইমাম-ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাম বিগ্রহের নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেন মন্দির কমিটির উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত। তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে সম্প্রতি, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাম মন্দিরের সকল মালামাল সরিযে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে “এটি বাংলাদেশের মাটি ভারতের কোন তাবেদারী চলবে না” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিটির কথা উল্লেখ করে অনেককে ভিডিও তৈরি করতেও দেখা যায়। এমন ভিডিও কনটেন্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকেও দাবিটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। টিকটকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই দাবি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ইউটিউবে প্রচারিত একই দাবিটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গাইবান্ধার রাম বিগ্রহ প্রসঙ্গে আলোচিত নির্দেশনা প্রদানের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে সেনাপ্রধানের নামে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার পোস্টগুলোতে দাবিটির পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র ব্যবহার করতে দেখেনি। এছাড়াও গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে সেনাপ্রধানের এমন নির্দেশনা প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে আইএসপিআর কর্তৃপক্ষ রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। রংপুরের রাম মন্দির নিয়ে সেনাপ্রধান এমন কোনো নির্দেশনা দেননি বলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে রিউমর স্ক্যানারকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সুতরাং, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাম মন্দিরের সকল মালামাল সরিযে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Statement of ISPR Bangladesh


