আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গুজব টিকটকে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই ঘোষণা দিয়েছেন শীর্ষক দাবিতে শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি টিকটকে ভিডিওটি ৪৬ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও এমন কোনো ঘোষণা দেননি। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের রিট খারিজ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনের ফুটেজ ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় একত্র করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর একাধিক কী-ফ্রেম রিভার্স সার্চের মাধ্যমে যমুনা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ০১ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ৫৬ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ এই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে একটি ফুটেজের মিল রয়েছে।

তবে, উক্ত সংবাদে কোথাও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে শীর্ষক কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটিতে সময় টিভি’র একটি প্রতিবেদনের ফুটেজ যুক্ত করা হয়। সময় টিভির মূল ভিডিওটি না পাওয়া গেলেও সেসময়ে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ইস্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য সংবলিত সময় টিভির একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, এই ভিডিওটিতেও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে সংক্রান্ত কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি, আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটিতে আরেকজন ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যায়, যার পেছনে ‘CALCUTTA DIALOGUES’ শীর্ষক নাম ও লগো’র উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। এর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে গত ২৫ সেপ্টেম্বরে ‘আওয়ামী লীগ সুনামি হয়ে ফিরছে’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটিতেও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে শীর্ষক দাবির পক্ষে কোনো বক্তব্য শুনতে পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া, আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটিতে বেশ কয়েকটি অপ্রাসঙ্গিক ভিডিওর ফুটেজ ও যুক্ত করা হয়েছে। যেগুলোর সাথে আওয়ামীলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

স্বাভাবিকভাবে, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তা নিয়ে দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ঢালাওভাবে খবর প্রচার হতো। তবে এক্ষেত্রে অনুসন্ধানে, আলোচিত দাবির পক্ষে দেশিয় কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী গত ১২ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই দিন দলটির নিবন্ধন স্থগিত (আর্কাইভ) করে নির্বাচন কমিশন।

সুতরাং, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: