আ.লীগ কর্মীকে বিএনপির নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি, বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আওয়ামী লীগের কথিত কর্মী নিহত হয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, আহত একজন ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে করে চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আহত ওই ব্যক্তির মাথায় একটি ছুরি ঢুকানো অবস্থায় রয়েছে বলেও লক্ষ্য করা যায়। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ব্যক্তি রাজনৈতিক সহিংসার শিকার হয়ে মারা যাননি। প্রকৃতপক্ষে, প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ঐক্য টিভি নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৪ এপ্রিল একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকার। রাব্বি নামের এক যুবককে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছুরিকাঘাত করে। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্যে তাকে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতার করা পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে কালবেলা এবং দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ নামের একটি গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে উল্লিখিত ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। দৈনিক গণমানুষের আওয়াজের প্রতিবেদনটিতে আহত ব্যক্তির একটি স্পষ্ট ছবিও প্রচারিত হতে দেখা যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ত্রিমুখী প্রেমের ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল গাজীপুরের টঙ্গীতে রাব্বি নামের এই যুবককে ছুরিকাঘাত করে ইউসুফ মাহি নামের আরেক যুবক। প্রতিবেদনগুলোতে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, স্থানীয় এক কিশোরীর সঙ্গে রাব্বির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই এলাকার ইউসুফ মাহির সঙ্গেও ওই কিশোরীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কিছুদিন ধরে রাব্বির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে তার ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ওই কিশোর।

এ ঘটনায় সেসময় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম আরটিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে এ ঘটনায় কালবেলা ও মাইটিভির টঙ্গী প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনের ফেসবুক পেজে প্রচারিত একাধিক পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। যার একটি থেকে জানা যায়, ছুরিকাঘাতে আহত রাব্বি নামের ওই তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ এপ্রিল মারা যান।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আরেক ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, রাব্বিকে হত্যায় অভিযুক্ত ইউসুফ মাহিকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপশি লক্ষ্য করা যায় এঘটনায় প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদন বা ফেসবুক পোস্টে ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন ও পোস্টগুলোতে ত্রিমুখী প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিতই লক্ষ্য করা যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, উক্ত ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক সহিংসতার সম্পৃক্ততার দাবিটি ভিত্তিহীন।

সুতরাং, পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে আওয়ামী লীগ কর্মীকে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: