সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র এক নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
এদিকে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভিডিওটির একটি স্থিরচিত্র সংবলিত ব্যানার ব্যবহারের ঘটনাও দেখা গেছে।
উক্ত ঘটনায় ফেসবুকে প্রচারিত লাইভ দেখুন: এখানে।
একই দাবিতে ইন্সটাগ্রাম প্রাচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা এনসিপির কোনো নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনার নয়। বরং এটি পারিবারিক কলহের জেরে এক নারী আহত হওয়ার ঘটনার দৃশ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, কক্সবাজারের ওই তরুণীকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করেছেন।
অনুসন্ধানে ‘Farjin Sultana’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।

উক্ত পোস্টটির মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একজন ‘কী হয়েছে?’ জানতে চেয়ে মন্তব্য করেছেন। সেখানে পোস্টকারী উক্ত মন্তব্যে প্রত্যুত্তরে বলেছেন, স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন আহত নারীকে মারধর করেছেন।

এছাড়া, ‘Farjin Sultana’ নামক ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি থেকে আরও দুইটি পোস্ট (১, ২) খুঁজে পাওয়া যায়। সেগুলোর একটিতে ওই আহত নারীর চারটি ছবি যুক্ত করে বলা হয়েছে, নারীটিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মারধর করেছেন এবং অপরটিতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন- যে দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে সেটি দুই নাম্বার অর্থাৎ, সঠিক নয়।

পরবর্তীতে পোস্টকারী ফারজিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার। তিনি জানান, ঘটনাটি কক্সবাজার সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ঘোনার পাড়া (মইশখাইল্লা পাড়া নামে পরিচিত) এলাকায় ঘটে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীটি তার পাশের বাড়ির ছেলের স্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ তারিখ ভুক্তভোগী ওই নারীকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। মারধরের একপর্যায়ে নারীটি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি তার বাবার বাড়ি মহেশখালীতে চলে গেছেন বলে জানান পোস্টকারী।
তিনি আরও জানান, এটি মূলত পারিবারিক কলহের ঘটনা। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কারণ জড়িত নয়। ভুক্তভোগী নারী এনসিপির কোনো নেত্রীও নন।
পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, পারিবারিক কলহে মারধরের শিকার এক নারীর ভিডিও প্রচার করে বিএনপি নেতাকর্মীরা এনসিপির এক নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের পর ফেলে রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।


