১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরলে পরের ৫ বছর জনগণ আপনাদের পা ধরবে– এটি তারেক রহমানের নিজস্ব মন্তব্য নয়

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক নির্বাচনী জনসভায় তার নেতাকর্মীদের ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন। পরবর্তী ৫বছর জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ শীর্ষক নির্দেশনা দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে তাকে আলোচিত মন্তব্যটি করতে শোনা যায়। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে উদ্ধৃত করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রচার করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান। তার অ্যাকাউন্টে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ফটোকার্ড পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে মূলধারার কালবেলাও ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে দাবিতে উক্ত গণমাধ্যমের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে প্রচারিত হতে দেখা যায়। ফেসবুক প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমানের তার দলের নেতাকর্মীদের ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন। পরবর্তী ৫বছর জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ শীর্ষক নির্দেশনা দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি এসব কথা বলেন। তবে বক্তব্যের আগের ও পরের অংশ কাটছাঁট করে নির্দিষ্ট কয়েক সেকেন্ডের অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের বক্তব্য যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার ভিডিওটির বামপাশে উপরে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বাংলাভিশনের লোগো দেখতে পায়।

পরবর্তী অনুসন্ধানে বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেল পর্যালোচনা করে গত ৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত মূল প্রতিবেদনটির সন্ধান পাওয়া যায়। 

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটির ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত সময়ে তারেক রহমানকে আলোচিত মন্তব্যটি করেন। কিন্তু তার বক্তব্যের পুরো অংশটি শুনলে জানা যায়, তিনি মূলত ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দলের কুমিল্লার একজন নেতাকে সমালোচনা করে আলোচিত মন্তব্যটি করেন। তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মূলত ওই রাজনৈতিক দলের নেতা এক দলীয় সমাবেশে তাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন।

অর্থাৎ, বরিশালের বেলস পার্ক ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় ভিন্ন এক রাজনৈতিক দলের নেতার কর্মকান্ডকে সমালোচনা করে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের অংশ কাট করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের এক সভায় আলোচিত মন্তব্যটি করেছিলেন। তার দেওয়া সেই বক্তব্যকেই তারেক রহমান সমালোচনা করেন।

কালবেলা ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে কালবেলার লোগোর এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে কালবেলার ফেসবুক পেজে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কালবেলার ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেলেও দাবিটির সাথে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি কালবেলার প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, কালবেলার নামে ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা জনগণের পা ধরবেন বাকি ৫ বছর জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ শিরোনামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

সুতরাং, ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও কাটছাঁট করে সেগুলো তার নিজস্ব বক্তব্য দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর। এছাড়াও তারেক রহমানকে জড়িয়ে একই দাবিতে কালবেলার নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

হালনাগাদ

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: এই প্রতিবেদন প্রকাশ পরবর্তী সময়ে একই দাবিতে কালবেলার লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড পোস্ট আমাদের নজরে আসার প্রেক্ষিতে উক্ত পোস্টটি প্রতিবেদনে দাবি হিসেবে যুক্ত করা হলো এবং তার সপক্ষে ফ্যাক্ট প্রদর্শন করা হলো।

Share: