ভারতের মহিলা মাদ্রাসায় হামলার নয়, প্রচারিত ভিডিওটি ইয়েমেনের স্কুলে হুথি হামলার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয় এটি ভারতের মহিলা মাদ্রাসায় হামলার দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মাঠে বোরকা ও হিজাব পরিহিত কয়েকজন নারী দৌড়াদৌড়ি করছেন। ভিডিওটির মূল দৃশ্যে কোনো ধরনের কথোপকথন শোনা না গেলেও, পেজটির পক্ষ থেকে একজনকে ঘটনাটির বর্ণনা দিতে শোনা যায়। ধারাভাষ্যে তিনি বলেন, “ভারতের একটি মহিলা মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে হিন্দু উগ্রবাদীরা। চুপ থাকলে চলবে না ভাই। সারা বিশ্বের মুসলমান এক হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে।” 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের কোনো মহিলা মাদ্রাসায় হামলার দৃশ্য নয় এবং ঘটনাস্থলও ভারত নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি ২০২৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার দৃশ্য।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, @yemeniradar নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি সানার উত্তর হামাদান এলাকায় অবস্থিত একটি মেয়েদের স্কুলে হুথি বাহিনীর হামলার দৃশ্য।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ইয়েমেন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Aden News Channel এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুল কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের দেয়ালে স্লোগান ও সবুজ পতাকা টানাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শিক্ষার্থীরাও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন উদযাপনে অংশ নিতে রাজি হয়নি। পরবর্তী সময়ে হুথি সদস্যরা হামদান জেলার ওই মেয়েদের স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয় এবং স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করে।

সুতরাং, হুথি বাহিনীর ইয়েমেনে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার দৃশ্যকে ভারতে মহিলা মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: