জামায়াতের যুব-ছাত্র নাগরিক গণসমাবেশের মঞ্চে লাল কার্পেট ব্যবহৃত না হওয়ার দাবিটি মিথ্যা

গত ২৮ নভেম্বর রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা–১৭ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এসএম খালেদুজ্জামানের উদ্যোগে যুব-ছাত্র নাগরিক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশের মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকার রঙের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সবুজ রঙ এবং লাল রঙের কার্পেট ব্যবহার করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনামূলক পোস্ট করা হয়। তবে উক্ত দাবির প্রেক্ষিতে ভিন্ন আরেকটি পোস্ট ফেসবুকে প্রচার করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় মঞ্চে লাল রঙের কোনো কার্পেট-ই ছিলনা। দাবিটির পক্ষে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করা হয়, যাতে দেখা যায়, মঞ্চের রঙ সবুজ হলেও সেখানে কোনো লাল রঙের কার্পেট নেই। প্রচারিত ছবিগুলোর একটিতে বাংলাদেশ জামায়াাতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে মঞ্চে উঠতে দেখা যায়। যেটি ‍মূলত একই দাবিতে প্রচারিত আরেকটি ভিডিওর একটি স্ক্রিনশট।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুস এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামায়াতের যুব-ছাত্র নাগরিক গণসমাবেশের মঞ্চে লাল রঙের কার্পেট ব্যবহার হয়নি দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত সমাবেশের মঞ্চে প্রথমে লাল রঙেল কার্পেট ব্যবহার করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবি এবং ভিডিওগুলো কার্পেট সরিয়ে নেওয়ার পর ধারণ করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমকর্মী Zakaria Ibn Yusuf এর ফেসবুকে পেজে প্রচারিত উক্ত সামাবেশের একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

ছবিটিতে সমাবেশের মঞ্চে লাল রঙের আলোচিত কার্পেটটি দেখতে পাওয়া যায়। তবে পোস্টটির শিরোনামে জাকারিয়া দাবি করেন, সমালোচনার মুখে স্টেজের লাল রঙের কার্পেটটি সরিয়ে পরবর্তীতে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে Bangladesh Jamaat-e-Islam এর ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত সমাবেশের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় সমাবেশের প্রথমাংশে মঞ্চে লাল রঙের কার্পেট দেখতে পাওয়া যায়। তবে ভিডিওটির ৩৬ মিনিট থেকে ইকবাল হুসাইন নামের একজন ব্যক্তি ও তার দল পারফর্ম করা শুরু করেন। উক্ত পারফরমেন্স চলাকালীন ৩৭ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ফুটেজে কয়েকজন যুবককে লাল রঙের কার্পেট তুলে সবুজ রঙের কার্পেট বিছাতে দেখা যায়।

অপরদিকে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে উঠার সময় ধারণ করা। জামায়াতে ইসলামীর ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সমাবেশের শেষাংশে মঞ্চে উঠেন। ভিডিওটির ২ ঘন্টা ৫ মিনিটের ফুটেজে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। যার কারণে সেসময় মঞ্চে লাল কার্পেটের পরিবর্তনে সবুজ কার্পেট দেখতে পাওয়া যায়।

সুতরাং, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব-ছাত্র নাগরিক গণসমাবেশের মঞ্চে লাল রঙের কার্পেট ব্যবহার করা হয়নি দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: