মবের অভিযোগে ডাকসুর দুই নেতা আটকের ভুয়া দাবি

রাজধানীর শাহবাগ থানায় মব এর ঘটনায় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদকে আটক করা হয়েছে দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।

একই দাবির টিকটক পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহবাগে মবের অভিযোগে ডাকসুর দুই নেতা আটকের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ফটোকার্ডটির সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘GojobVision’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত রাতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়।

‘GojobVision’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এটি স্যাটায়ার বা প্যারোডিধর্মী পেজ হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত পোস্টগুলো মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

প্রচারিত ছবিটি গুগলের জেমিনির এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডির (SynthID) মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। জেমিনি জানায়, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।

গুগলের সিন্থআইডি (SynthID) প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। গুগলের দাবি, কনটেন্ট তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই এই ওয়াটারমার্ক যুক্ত হয় এবং ক্রপ করা, ফিল্টার প্রয়োগ বা ফ্রেম রেট পরিবর্তনের মতো সম্পাদনার পরও এটি টিকে থাকে। কোনো ছবি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না জানতে চাইলে জেমিনিতে ছবিটি আপলোড করে জিজ্ঞেস করলেই সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়।

সুতরাং, শাহবাগ থানার ভেতর ঢুকে মব জাস্টিস করার ঘটনায় মধ্যরাতে ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আটক শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা এবং প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড।

তথ্যসূত্র

Share: