ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ হয়েছে দাবিতে সাকিব কোনো লাইভে আসেননি

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৪ এ শেষটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে গত ২৫ জুন আফগানিস্তানের দেয়া ১১৬ রানের লক্ষ্য ১২.১ ওভারের মধ্যে নিতে হতো বাংলাদেশের কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ১০৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। তাতে বৃষ্টি আইনে ৮ রানে জয় পায় আফগানরা। এই হারের মধ্য দিয়ে সুপার এইটের তিনটি ম্যাচেই হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষে গত শুক্রবার সকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল।

এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, “ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ নিয়ে লাইভে এসে জা বল্লো সাকিব” শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি উক্ত ভিডিওটি ৪৩ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে।

একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি উক্ত ভিডিওটি ১ লক্ষ ৫ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্রিকেটারদের উপর আক্রমণের বিষয়ে সাকিব আল হাসান লাইভে আসেননি বরং তার পুরোনো লাইভ ভিডিও ও ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে ব্যবহৃত সাকিব আল হাসানের লাইভ ফুটেজের কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে সাকিব আল হাসানের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর প্রচারিত একটি লাইভ খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত লাইভ ভিডিওর একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওতে সাকিবের লাইভ ফুটেজ দাবিতে প্রদর্শিত ক্লিপটির হবহু মিল পাওয়া যায়। মূলত ২০২০ সালে সাকিব আল হাসান কর্তৃক ভক্তের মোবাইল ছুড়ে মারা ও পূজায় যোগ দেয়া নিয়ে দুটি পৃথক বিতর্ক সৃষ্টি হলে উক্ত লাইভে এসে সবার উদ্দেশ্যে সাকিব দুটি ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

এছাড়াও, প্রচারিত ভিডিওতে সাকিব আল হাসানের আরেকটি ফুটেজ সংযুক্ত করা হয়। কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধান করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উক্ত ফুটেজের মূল ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত ২০২৩ সালে সাকিব আল হাসান দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন করতে গিয়ে দর্শকদের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়েন। ভিডিওটি সেসময়ে ধারণ করা।

এছাড়া, দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ কিংবা এই বিষয়ে সাকিব আল হাসানের লাইভ সম্পর্কিত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারায় বিশ্বকাপ মিশন শেষে হয় বাংলাদেশের। এরই প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যদের আক্রমণ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে সাকিব আল হাসান লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ কিংবা সাকিব আল হাসান লাইভে এসে ক্ষমার মতো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, সাকিব আল হাসানের ভিন্ন বিষয়ের পুরোনো লাইভ ভিডিও ও ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে ভিত্তিহীনভাবে উক্ত ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, ক্রিকেটারদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে দাবিতে সাকিব আল হাসান লাইভে এসেছেন মর্মে প্রচারিত বিষয়টি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: