চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল বা শিবির নেতার সিএনজি ভাঙচুর নয়, ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

সম্প্রতি, চাঁদা না পেয়ে কথিত ছাত্রশিবিরের নেতা সিএনজির গ্লাস ভাঙচুর করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই ভিডিওটি চাঁদা না পেয়ে কথিত ছাত্রদল নেতার সিএনজি ভাঙচুরের দাবিতেও প্রচারিত হতে দেখা যায়। ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ভিডিওটি চাঁদা না পেয়ে সিএনজি ভাঙচুরের দাবিতে দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের ফেসবুক পেজেও প্রচার করা হয়। গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল কিংবা শিবির নেতার সিএনজি ভাঙচুরের ঘটনার নয়। এছাড়া উক্ত ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও নেই। প্রকৃতপক্ষে, সিএনজি থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তি সিএনজি ভাঙচুর করেন।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে C TV নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

তবে ভিডিওটির শিরোনামে দাবি করা হয়, ঘটনাটি নরসিংদীর শিবপুর সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ডে ঘটে। পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, ওই যাত্রীকে নরসিংদীর ইটাখোলা এলাকায় সিএনজি থেকে নামিয়ে দিলে সে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে সিএনজি ভাঙচুর করেন। শিবপুর প্রতিদিন নামের নরসিংদীর একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের ফেসবুকে পেজে করা একটি পোস্ট থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত পোস্টগুলোর মন্তব্যের ঘর পর্যালোচনা করে মোহাম্মদ ফুয়াদ নামের একজন ব্যক্তির একটি মন্তব্য লক্ষ্য করা যায়, ফুয়াদ পোস্টটিতে উক্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই সিএনজির একটি ছবি কমেন্ট করেন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রত্যক্ষদর্শী ফুয়াদ রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তি ইটখোলা থেকে সিএনজিতে করে সি অ্যান্ড বি যাচ্ছিলেন। পথে সিএনজি চালক তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। চালক ইটখোলার বাসিন্দা ছিলেন। পরে ওই ব্যক্তি সেখানে অবস্থান নিয়ে পথ দিয়ে যাওয়া সিএনজিগুলো থামিয়ে চালকদের এলাকার নাম জিজ্ঞেস করছিলেন। ফুয়াদ নিজেও একটি সিএনজিতে ছিলেন। তার সিএনজি চালকের এলাকার নাম ভিন্ন হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এক পর্যায়ে আরেক সিএনজি চালক নিজের এলাকার নাম ইটখোলা বললে তার গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেন, কিন্তু তিনি তা পরিশোধ করেননি।

এছাড়াও ফুয়াদ নিশ্চিত করেন, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুতরাং, ভিন্ন ঘটনার একটি ভিডিও ‘চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল বা শিবির নেতার সিএনজি ভাঙচুর’ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • C TV Facebook Post
  • শিবপুর প্রতিদিন Facebook Post
  • Statement of Md Fouhad
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: