সম্প্রতি, আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় কথিত এক ব্যক্তির মেয়েকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ধর্ষণ করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, উল্লিখিত ব্যক্তির মেয়েকে শিবিরের সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে গিয়ে তিনদিন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই ভিডিওটি-ই ইসলামী ছাত্রশিবিরকে উল্লেখ না করে শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার দাবি করে প্রচার করা হয়। এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিও পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি কথিত কোনো আওয়ামী লীগ সমর্থকের মেয়েকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, গতবছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নওরিন সুলতানা নামের ওই তরুণী তার আপন মামাসহ কয়েকজনের হামলায় আহত হন, ভিডিওতে সেই ঘটনার দৃশ্যই প্রদর্শিত হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Aydaa Nora’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গতবছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রচারিত একটি পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়। সাতটি ছবি সংযুক্ত এই পোস্টটির প্রথম দুটো ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও কিছু দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। উভয় কনটেন্টে একই মেয়েকে আহত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আমি হসপিটালে ভর্তি অবস্থায় এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। গতকাল (১৩/০৯/২৫) সন্ধ্যা সাতটার সময় আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে আমার নিজ আপন মামা এবং কিছু কাজিনদের সাথে নিয়ে হুট করে অতর্কিত হামলা চালাই, আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য। গতকাল সন্ধ্যায় হামলা করার আগের রাতেও (১২/০৯/২৫ তারিখ রাত ১১ টার দিকে) আমাকে চুল ধরে টানাটানি করে মারছিল। যার কারণে সেদিন রাতেই আমি থানায় অভিযোগ করছিলাম নিরাপত্তাহীনতার জন্য। দুপুরে পুলিশ এসে ঘটনা তদন্ত করার কথা থাকলেও আসেনি। সেই রাত পার হয়ে এবং গতকাল দিন পার হয়ে সন্ধ্যা সাতটায় আমার মামা কিছু দল গঠন করে সন্ধ্যায় আমার উপর হামলা চালাই। আমি কেন জিডি করছি, আমাকে এই বাড়িতে আর থাকতে দিবে না। মারতে মারতে মারি ফেলবে, তারপরেও জিডি বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারব না। নিলেই মেরে ফেলবে আমাকে এসব হুমকি দেয়। আমি এসব হুমকি তোয়াক্কা না করলে তখনই আমাকে খুন করে মেরে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করে। মাঝখান দিয়ে লোডশেডিং এর অন্ধকারের সুযোগে সাথে সাথে দুই সেকেন্ড না হতেই কোথায় থেকে ইট মেরে আমার মাথায় কেমন যখম করছে ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।…’ উক্ত পোস্টের কোথাও গণধর্ষণের দাবির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
উক্ত ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণে ওই তরুণীর আরও বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অ্যাকাউন্টটি মূলত ভিডিওতে প্রদর্শিত তরুণীরই। এছাড়াও অ্যাকাউন্টটি থেকে জানা যায়, ওই তরুণীর ডাকনাম নওরিন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘ভোরের আওয়াজ২৪’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মে ‘চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী নওরিন ও পরিবারের ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলা: গ্রেফতার দাবি, চান্দগাঁও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ’ শিরোনামে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আলোচিত ঘটনাটি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার। মূলত সম্পত্তি দখল নিয়ে নওরিন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এই হামলা হয় বলে জানা যায়। তবে প্রতিবেদনটিতে এর সাথে আলোচিত দাবির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, উক্ত তরুণীর ওপর হামলার ঘটনার আরেকটি ভিডিও পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার দাবিতে প্রচারিত হলে সেসময় দাবিকে মিথ্যা হিসেবে যাচাই করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।
সুতরাং, চট্টগ্রামে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় এক তরুণীর আহত হওয়ার ঘটনাকে বাবা আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় মেয়েকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ ধষর্ণ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Aydaa Nora Facebook Post
- Bhorer Awaj24 Website: চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী নওরিন ও পরিবারের ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলা: গ্রেফতার দাবি, চান্দগাঁও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
- Rumor Scanner’s Analysis


