সম্প্রতি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজপথে নামার কারণে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ গ্রেফতার হয়েছেন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ গ্রেফতার হননি। প্রকৃতপক্ষে, অধিক ভিউ পাবার আশায় চটকদার থাম্বনেইল এবং শিরোনাম ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে প্রযুক্তির সাহায্যে যুক্ত করে ভিত্তিহীনভাবে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তবে, ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে কোথাও সোহেল তাজকে গ্রেফতারের দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
আলোচিত ভিডিওটিতে মোট দুইটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সংযুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ প্রতিদিনের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১২ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ এই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও’র প্রথম দৃশ্যের মিল রয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের ভিডিওর শিরোনাম থেকে জানা যায়, এটি গত ১২ নভেম্বর এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটকের ঘটনার ভিডিও। উক্ত ভিডিওতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজের গ্রেফতার দাবি সমর্থিত কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।

পাশাপাশি, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে যুক্ত দ্বিতীয় ফুটেজে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। যেখানে তিনি সোহেল তাজ সম্পর্কিত কথা বলতে দেখা যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত ভিডিওটি কোনো প্রকার প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত করা হয়েছে এবং যা সোহেল তাজের গ্রেফতারের দাবির সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
স্বাভাবিকভাবে, সোহেল তাজ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হলে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে খবর প্রচার হত। তবে, এক্ষেত্রে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত কোনো সূত্র উক্ত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সোহেল তাজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত একাধিক পোস্ট প্রচার হতে দেখা যায়। যা থেকেও নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তিনি গ্রেফতার হননি।
তাছাড়া, আলোচিত দাবির ভিডিওটি গত ১৩ নভেম্বরে প্রচার করা হলেও তার ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্টগুলো (১, ২) বিশ্লেষণে জানা যায়, সেসময়ে তিনি (সোহেল তাজ) বাংলাদেশেই ছিলেন না।
সুতরাং, সোহেল তাজ গ্রেফতার হয়েছেন শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh Pratidin: Youtube Video
- Sohel Taj: Facebook Page
- Sohel Taj: Facebook Post 1
- Sohel Taj: Facebook Post 2


