টিআইবিকে উদ্ধৃত করে নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট পড়ার দাবিটি ভুয়া

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উক্ত নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে দাবিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-কে উদ্ধৃত করে দেশীয় গণমাধ্যমগুলোতে একটি তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন সংবাদ দেখুন নাগরিক টিভি, সময়ের আলো, বিডিনিউজ২৪ এবং ঢাকা টুডে

গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

এছাড়াও আলোচিত দাবিটি প্রচার করে পরবর্তীতে একাধিক গণমাধ্যম তা সরিয়ে নেয়। গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে; ইত্তেফাক, মোহনা টিভি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আলোচিত দাবিতে একটি পোস্ট করেন। তার করা পোস্টটি দেখুন এখানে। 

সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা পোস্টটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তার শেয়ারকৃত পোস্টটি দেখুন এখানে

একই দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ফেসবুকে পেজে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে প্রচারিত একই দাবির পোস্ট দেখুন এখানে

ফেসবুকে প্রচারিত অন্যান্য পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টিআইবির গবেষণায় ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট পড়ার কথা বলা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, টিআইবির ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণায় উঠে আসে এতে ৩০০ টি আসন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল ৭০ টি নমুনা আসনের ২১.৪ শতাংশ আসনে জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া যায়।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে টিআইবি আয়োজিত আজকের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা প্রেজেন্টেশন স্লাইডটি সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, টিআইবি পরিচালিত গবেষণায় মোট ৩০০ টি নির্বাচনি আসন থেকে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০ টি আসন নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। উক্ত আসনসমূহের ৪০ শতাংশ আসনে বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটে বলে তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে। যার মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে জাল ভোট প্রদানের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এঘটনায় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লে টিআইবির পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “টিআইবির মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জালভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্যকে পুরো নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জালভোট পড়েছে-এমনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন ও অমূলক।”

এছাড়াও টিআইবির ফেসবুক পেজেও এসংক্রান্ত একটি পোস্ট পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, টিআইবির গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৭০ টি নমুনা আসনের ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোটের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

সুতরাং, টিআইবিকে উদ্ধৃত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট পড়ার দাবিতে প্রচারিত সংবাদটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Transparency International Bangladesh Research Slide
  • Transparency International Bangladesh Press Release
  • Transparency International Bangladesh Facebook Post
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: