সম্প্রতি, এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা করেছে এলাকাবাসী দাবিতে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে এলাকাবাসীর হামলার দৃশ্য নয়, এমনকি ওই গাড়ি বহরটি হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমেরই নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ১৬ জুন লালমনিরহাটে ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। সেই ঘটনার ভিডিও এটি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Channel 52 News নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১৬ জুলাই প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

এই পোস্ট থেকে জানা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে ৭ বছরের শিশু নন্দিনী হত্যাকে কেন্দ্র করে অতর্কিতভাবে জেলা প্রশাসক ও লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপারের গাড়ি ভা’ঙচু’র করে জনগণ৷ সেই ঘটনার দৃশ্য এটি।
উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ১৬ জুন একাধিক ফেসবুক পেজ-প্রোফাইলে একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়।
একই ঘটনায় প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ একাধিক গণমাধ্যমেও ভিডিও প্রচার করতে দেখা যায়।
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ১৬ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। সেই ঘটনার ভিডিও এটি। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেট নিক্ষেপ করেন পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির সপক্ষেও কোনো তথ্য গণমাধ্যম কিংবা হাসনাত আবদুল্লাহ (ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ) ও সারজিস আলমের (ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি। এমনকি এনসিপির ফেসবুক পেজ থেকেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
সুতরাং, ভিন্ন ঘটনার এক মাস পুরোনো ভিডিওকে সম্প্রতি হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে এলাকাবাসীর হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Kamrul Hasan Bijoy- Facebook Post
- Prothom Alo- Facebook Post
- Daily Star- Facebook Post
- Nagorik Tv- আদিতমারীতে শিশু হত্যা : পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর
- Rising Bd- ভুট্টা ক্ষেতের মাটি খুঁড়তেই মিলল শিশুর বস্তাবন্দি লাশ
- Hasnat Abdullah- Facebook Page & Account
- Sarjis Alam- Facebook Page & Account
- NCP- Facebook Page


