সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের শিক্ষার্থীগত যোগ্যতা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, সামান্তা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি এবং এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও বলা হয়, তিনি এলএলএম-এ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবিধানিক আইন ও মানবাধিকারের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন বলেও পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি পোস্টে উল্লেখ করা হয় সামান্তা শারমিন ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। এমন কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সামান্তা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি এবং এলএলএম সম্পন্ন করার দাবিটি সঠিক নয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করার দাবিটিও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। পাশাপাশি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করার তথ্যটি তার নামে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক বণিক বার্তার ওয়েবসাইটে প্রচারিত সামান্তা শারমিনের একটি সাক্ষাৎকার খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সামান্তা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।
পরবর্তীতে উক্ত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে সামান্তা শারমিনের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে আলোচিত দাবিটির বিষয়ে ১৭ নভেম্বর তার প্রোফাইলে প্রচারিত একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টটিতে তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে প্রচারিত আলোচিত দাবিগুলোকে মিথ্যা উল্লেখ করে এমন প্রচারণার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পাশাপাশি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের অ্যাবাউট সেকশন পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের ২০ তম ব্যাচ বা ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি একই বিভাগের বর্তমান সভাপতি ও শিক্ষক নাসিমুল খবিরের অধিনে ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নারী হিসেবে ভাস্কর্য চর্চার সংকট নিয়ে গবেষণা করেছেন।

সামান্তা শারমিন রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন, ভাস্কর্য বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভের পর তিনি আর কোনো ডিগ্রী নেননি।
অর্থাৎ, সামান্তা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ নয় বরং, চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। সে বিবেচনায়ও ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পিএইচডি ডিগ্রী লাভের দাবিটিও অবান্তর। কারণ সাধারণত স্নাতক ডিগ্রী ব্যতীত পিএইচডি ডিগ্রী নেওয়া সম্ভব নয়।
এছাড়াও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। পাশাপাশি দেখা যায়, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে উইকিপিডিয়ায় থাকা তথ্যগুলোকেই সামান্তা শারমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ থেকে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে, নামের শেষাংশ ‘শারমিন’-এর মিল থাকায় শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রচারের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে উক্ত বিভ্রান্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করার দাবিতে প্রচারিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bonik Barta Website: ‘বাংলাদেশে একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে’
- সামান্তা শারমিন Facebook Post
- University of Dhaka Website: Nasimul Khabir Dhaka University Profile
- Statement of Samanta Shermeen
- Jagonews24 Website: স্পিকার শিরীন শারমিনের জন্ম
- Commonwealth Parliamentary Association Website: Shirin Sharmin Chaudhury
- Rumor Scanner’s Analysis


