খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং এই তথ্য সরকার প্রকাশ করতে দিচ্ছে না শীর্ষক ভুয়া দাবি

শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় সিসিইউতে। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, তার মৃত্যুর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য প্রচার করা হয়েছে। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া মারা গিয়েছেন। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যমগুলোতে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করতে দিচ্ছেন না বলেও পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়েছে শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে সরকারের বাধা প্রদানের দাবিও অবান্তর। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই এই ভুয়া দাবিগুলো প্রচার করা হয়েছে।
দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত পোস্টগুলোর মন্তব্যের ঘরে ‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ নামের সাইটের সংবাদের লিংক পাওয়া যায়। কথিত এই সংবাদে দাবি করা হয়, গত ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২ টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা গিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তার বরাতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যমগুলোকে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার কোনো আপডেট নিতে দিচ্ছেন না জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ‘আমরা দেখা করতে গেলে আমাদেরকে শর্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছে এবং বাহিরে এসে কোন কথা বলা যাবে না এ ধরনে হুমকি দিচ্ছে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থ্যা।’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো হাসপাতাল কর্মকর্তার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, তিন দিন পর গত ২৯ নভেম্বর সকালে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেছেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি গতকাল রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন।
এছাড়াও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা রুহুল কবির রিজভীর আলোচিত মন্তব্যগুলো করার বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ নামের কথিত এই সাইটটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটির ডোমেইন এক বছর মেয়াদে গত ৩ নভেম্বর রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। সাইটটিতে মনগড়া ও ভিত্তিহীন নানা সংবাদ নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে, যা একটি ভুঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়।
সুতরাং, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গিয়েছেন এবং সরকার সে সংবাদ প্রকাশে বাধা দিচ্ছে সংক্রান্ত দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s Analysis

